স্বাগতম হে মাহে রমজান

রহমত বরকত মাগফেরাতের এই মাহে রমজান। আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার এই মাহে রমজান। যার ঘোষণা হাদীসে কুদসিতে এসেছে-

উচ্চারণ :
কুল্লু আমালিন ইবনু আদামি লাহু ইল্লাস সিয়ামু ফাইন্নাহু লি ওয়া আনা আযযি বিহী (সহিহ মুসলিম)

অর্থ : মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য হয়ে থাকে, কিন্তু রোজা শুধু আমার জন্য আমি তার প্রতিদান দিব। (সহিহ মুসলিম)।

কেউ কেউ এ অর্থও করেন থাকেন-
রোজা আমার জন্য রাখা হয়; আমি নিজেই এর প্রতিদান। সুতরাং এত বড় নেয়ামতের মাস রমজান; যার করণীয় সম্পর্কে আমাদের প্রস্তুতি নেয়া দরকার।

তাই এই কুরআন নাযিলের মাসে বিশ্ব মুসলিম রমজানের প্রস্তুতিতে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে ব্যক্তি, সমাজ, পাড়ায়, মহল্লায় সেমিনার সিম্পোজিয়াম, সভা-সমাবেশ করে থাকে সবাইকে এ বার্তা পৌছে দেয়ার জন্য যে, মাহে রমজান সমাগত।

ওহে বিশ্ব মুসলিম এ মাসে-
দুনিয়ার সকল প্রকার খারাবি থেকে নিজেকে তথা সমাজকে মুক্ত রাখো; আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো; রহমত বরকত মাগফেরাত অর্জনের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন কর।

প্রস্তুতিগুলো কেমন হওয়া চাই :
রমজান মাস পাওয়ার জন্য আমরা রজব মাস থেকেই আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে আসছি-
বর্ণিত আছে, যখন রজব মাস শুরু হত, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দু’আ করতেন-

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা বা-রাকলানা-ফি- রাজাবা ওয়া শা’বান ওয়া বাল্লিগনা- রামাদা-ন।
অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জন্য রজব ও শা’বান মাসে বরকত দাও এবং আমাদেরকে রমযান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দাও। অথ্যাৎ আমাদের নেক হায়াত দান কর, যাতে আমরা রমযান মাস পেয়ে রমযানের বরকত লাভ করতে পারি। সুতরাং আমাদের রমজানের প্রস্তুতি নেয়া একান্ত প্রয়োজন। মুমিন মুসলমানরা এখন সেই প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। কেউবা প্রস্তুতি নিয়েছেন।

যারা খতমে কুরআনের মাধ্যমে তারাবীহ আদায় করবেন তারাও অনেক আগে থেকেই প্রস্তুত।
যারা ইজতেমায়ী ভাবে ইফতারের আয়োজন করবেন তারাও প্রস্তুত। প্রস্তুত সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তথা উপাসনালয়। ধর্ম প্রাণ মুসলমানদের মধ্যে যারা এখনও প্রস্তুতি নেয়নি তারাও প্রস্তুতির পথে। যাতে সবাই ইবাদতে-ইবাদতে কাটিয়ে দিতে পারে পুরো রমজান মাস।

হাদীস শরীফে এসেছে-
উম্মাহাতুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, যখন রমজান সমাগত তখন হযরত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র রমজানুল মোবারকে ইবাদত-বন্দেগীর জন্য কোমর বেঁধে লেগে যেতেন।

তাইতো সমাজের সর্বস্তরে রমজানকে বরণ করতে তথা রমজানের ব্যাপারে সচেতনা তৈরি করতে এবং রমজানের যথাযথ প্রস্তুতি নিতে বিশ্ব মুসলিমের নিকট রমজানের আগমনী বার্তা পৌছিয়ে দেয়া ঈমানের একান্ত অপরিহার্য দাবি। জাগো নিউজের পক্ষ থেকে আহলান সাহলান মাহে রমজান মুরাবক হো মাহে রমজান সুস্বাগতম হে মাহে রমজান

দৃষ্টি আকর্ষণ :
আমরা আজ থেকে পর্যায় ক্রমে রমজানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রমজান সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়াদি জাগো নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের মাধ্যমে বিশ্ব মুসলিমে খেদমতে তুলে ধরব ইনশা আল্লাহ।

রমজানকে স্বাগত জানিয়ে বরিশালে পুলিশের র‍্যালি

পবিত্র মাহে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে বরিশাল ইমাম সমিতি এবং মহানগর পুলিশ প্রশাসন নগরীতে যৌথভাবে র‍্যালি বের করেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সদর রোড অশ্বিনী কুমার হলের সামনে থেকে র‍্যালিটি বের হয়। র‍্যালিটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

র‍্যালির উদ্বোধন করেন মহানগর পুলিশের কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী। এসময় তিনি বলেন, রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় দিনের বেলা প্রকাশ্য পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতার বিক্রি করা যাবে না। সকাল প্রকার অশ্লীলতা বন্ধ রাখা ও রোজাদারদের সম্মান করার আহ্বান জানান তিনি।

র‍্যালিতে অংশ নেন মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. সোয়েব আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) গোলাম রউফ খান পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. জিল্লুর রহমান, নগর ইমাম সমিতির সাধারণ সম্পদক বশিরুল্লাহ আতাহারীসহ অন্যরা।

জামালপুরে জমি নিয়ে বিরোধে বসতঘরে হামলা

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার বিকালে উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের আদ্রা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের হাটবাড়ি গ্রামের হাকিম মণ্ডল সঙ্গে মূলবাড়ী গ্রামের নতু তালুকদারের ছেলে জাহাঙ্গীর তালুকদারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে বিকালে জাহাঙ্গীর তালুকদার পুলিশের সহায়তায় ২০/২৫ জনের একটি ভাড়াটে দল নিয়ে ছলিম মন্ডলের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।

হামলাকারীরা লাঠিসোঠা, রামদা, শাবল ও হাতুরি দিয়ে একটি বসতঘর গুড়িয়ে দেয় এবং একটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে আমজাদ হোসেন (৪৫), সুরুজ মিয়া (৩৫), জলিল তালুকদারসহ (৩২) অন্তত পাঁচজন আহত হন।

আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনা চলাকালে হামলাকারীদের তাণ্ডবে আদ্রা বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ভয়ে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

পুলিশের একার পক্ষে নিরাপত্তা দেওয়া কঠিন : ডিএমপি কমিশনার

শুধু পুলিশের একার পক্ষে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনগণের মাঝেও নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি করতে হবে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় ডিএমপির সদর দফতরে টহল গাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া একথা বলেন।

তিনি বলেন, রমজানে ও ঈদে মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে এবং তাদের জান ও মালের নিরাপত্তা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সব ধরণের ব্যবস্থাই গ্রহণ করেছে পুলিশ।

রমজানে রাজধানীর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি না করতে ওয়াসা এবং দুই সিটি মেয়রকে অনুরোধ জানিয়ে কমিশনার বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর দুই সিটি মেয়রের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। রমজানে রাজধানীর সকল রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ আপাতত বন্ধ রাখতে ডিএমপির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।

রাজধানীর যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমস্যার ‍দ্রুত নিরসনে ট্রাফিক বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, মগবাজার যানজটের জন্য দায়ী। রাজধানীবাসীর জন্য বিষফোঁড়া। মগবাজারের কারণেই পুরো নগরীতে যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এই এলাকার যানজট নিরসনে ডিএমপির পক্ষ থেকে বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। মগবাজারের ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তা দ্রুত মেরামত, রাস্তা জুড়ে পড়ে থাকা নির্মাণ-সামগ্রী স্থানান্তরের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান তিনি।

রাজধানীর যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে মূল সড়ক জুড়ে যাতে কোনো ইফতারির দোকানপাট না বসে সেজন্য সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ইস্টার্ন হাউজিং লি.-এর সিনিয়র নির্বাহী পরিচালক নাজেম নিয়াজ কমিশনারের হাতে টহল গাড়ির চাবি তুলে দেন। ডিএমপি ও ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বকশীগঞ্জে ফুটবল টুর্নামেন্টে বিলেরপাড় একাদশ চ্যাম্পিয়ন।

বকশীগঞ্জ


জামালপুরের বকশীগঞ্জে সাধুরপাড়া ইউনিয়নের ঠান্ডারবন গ্রামে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঠান্ডারবন যুব সংগঠন কর্তৃক আয়োজিত বুধবার বিকালে ঠান্ডারবন সরকারি বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টে বিলের পাড় একাদশ বনাম ধাতুয়া কান্দা একাদশের মধ্যে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় বিলের পাড় একাদশ চ্যাম্পিয়ন হয়। খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল আলম বাবু। এতে সভাপতিত্ব করেন  স'ানীয় সমাজসেবক সোরহাব হোসেন। পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে এসময় প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম, শিক্ষক তাইরুল হাসান, রাশেদুজ্জামান সোনা , ডাঃ খবির উদ্দিন, ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির, সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ উপসি'ত ছিলেন।
এতে কয়েক হাজার দর্শক খেলাটি উপভোগ করেন।    

সিপ্রাস-জাঁ ক্লদের দ্বৈরথ: অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে গ্রিস

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জাঁ-ক্লদ জুঁকার গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী আলেক্সিস সিপ্রাসের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সিপ্রাস তার দেশের মানুষের কাছে মিথ্যে বলছেন। সিপ্রাস সর্বশেষ গ্রিক নির্বাচনে সমাজতন্ত্রের বিজয়নায়ক। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দেশের অর্থনৈতিক কৃচ্ছতা পরিত্যাগ করে দেশকে ঋণমুক্ত করবেন। বর্তমান পরিস্থিতির সাপেক্ষে গ্রিক নাগরিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ঋণদাতারা গ্রিসকে সর্বতভাবে পরাস্ত করতে চাইছে।
জাঁ-ক্লদ সিপ্রাসের ব্যাপারে তীব্র হতাশা ব্যক্ত করেছেন। এমনিতেই উপর্যুপরি মতানৈক্য এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা পেছাতে থাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না গ্রিসের এমনকি ইইউ থেকে ছিটকে পড়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে এক হিসেবে। এমন সময়ে গ্রিক নাগরিকদের সম্মুখে সিপ্রাস এমন উক্তি করায় ক্লদদের হতাশা এখন বেড়েছে।
সিপ্রাস আরও বলেছেন, ঋণদাতারা ভবিষ্যত বাজারে বিদ্যুতের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করার ভাবছেন যা গ্রিসের জন্যে প্রযোজ্য হবে। একইসঙ্গে শুল্ক আরোপ করবেন তারা জীবনরক্ষাকারী ঔষধের ওপরও। বিষয়গুলো নিন্দা যুগিয়েছে গ্রিসে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জাঁ-ক্লদ এক্ষেত্রেও হতাশ। জানালেন, সিপ্রাস জানেন খোদ ক্লদ নিজেই এমন শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে। এবং বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ অবস্থায় এমন মন্তব্য করা একজন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে সমীচিন নয় বলে মনে করেন ক্লদ।
Jean-Claude-President-of-Euro-comission
আগামী ১৮ জুন গ্রিসের সঙ্গে ইউরোপীয় প্রতিনিধি এবং আন্তরর্জাতিক মুদ্রা তহবিল প্রতিনিধিদের এক বৈঠক বসবে। তবে ঐ বৈঠকে নতুন কোনো প্রস্তাবনা গ্রিস দেবে না তা অর্থমন্ত্রী ভারোফাকিস আগেই বলেছেন। এখন দাতাকর্ণদের কাছ থেকে ঋণসংক্রারন্ত নতুন কোনো প্রস্তাবনা আসে কিনা সেদিকেই চোখ গ্রিসের মানুষের।

মন্ত্রিপরিষদ ভেঙে যেতে পারে ফিলিস্তিনের

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রপ্রধান মাহমুদ আব্বাস এক চাঞ্চল্যকর বক্তব্য দিয়েছেন। বলেছেন, দেশটির সম্মিলিত সরকার শিগগিরই পদত্যাগ করবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বসমূহই এর কারণ। মাহমুদ আব্বাসের ভাষ্য থেকে এটা পরিষ্কার যে দুই বাঘ এক ঘরে আর টিকতে পারছে না। নিজ দল ফাতাহকে টেক্কা দিয়ে জোট-অংশীদার হামাস দেখাচ্ছে ক্ষমতার স্বেচ্ছাচারিতা। আর এটিই মেনে নিতে পারছেন না আব্বাস।
আক্ষেপের সঙ্গে বলেছেন গাজা উপত্যকার কথা। ওখানে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে হামাস এবং জোট-অংশীদার ফাতাহকে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দিতে রাজি নয়। এ অবস্থায় যৌথ মন্ত্রীপরিষদ নিয়ে শাসন করে যাওয়া সম্ভব নয়। মাহমুদ আব্বাস পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরের এ সম্মেলনে এ তথ্য দেয়ার পর আরও বলেছেন, এমনকি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে পারে যৌথ প্রশাসন।
ইতোমধ্যে দুই দলের যৌথ শাসনতন্ত্রে চলছে ফিলিস্তিন প্রায় এক বছর হয়ে গেল। গত বছর জুন মাসে এই মিলিত সরকার যাত্রা শুরু করেছিল অনেক আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে আসা, দেশের মানচিত্র স্থিতিশীল রাখা, সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখাসহ অনেক প্রতিশ্রুতিই আভ্যন্তরীণ অন্তর্কোন্দলের সুবাদে ইসরায়েলের সুযোগসন্ধানী হস্তক্ষেপে বানের জলে ভেসে গেছে।
দুই পক্ষ কেন সুপ্রতিসমভাবে মিলিত হতে পারছে না, তার পেছনে কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে অতীত ইতিহাস খুব একটা মিত্রতার নয়, বরং বৈরীতারই। যে কারণে এখনও অনেক না তোলা শোধের আগুন বুকে পুষে রেখেছে দুই দলই, যে কারণে এমন অসহযোগীতা। পেছন ফিরলে দেখা যায় ২০০৬ সালে হামাস নির্বাচনে জয়লাভ করার পর গাজা উপত্যকা থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ফাতাহকে উৎখাত করেছিল।
palestine-map
ফাতাহর অসংখ্য অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে সংবেদনশীল অভিযোগ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে যা, তা হলো, হামাসের একটি পরিকল্পনা সম্পর্কে পূর্বানুমান। ফাতাহ অনুমান করছে হামাস শুধুমাত্র গাজাভিত্তিক একটি পৃথক রাষ্ট্র গড়ে তোলার ব্যাপারে ভাবছে। এমন সন্দেহের সপক্ষে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণও নাকি ফাতাহর হাতে আছে।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে রমজান শুরু কাল

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে রমজান মাস শুরু হবে।
মঙ্গলবার সৌদি আরবের আকাশের কোথাও রমজান মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। ফলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে রমজান মাসের তারিখ গণনা শুরু হবে বলে ঘোষণা করেছে সৌদি সুপ্রিম কোর্ট।
এদিকে, রমজান মাসে ইবাদত-বন্দেগি সুন্দর-সুশৃঙ্খল ও নিরবিচ্ছিন্ন করতে মক্কার হারাম শরীফ, মদীনার মসজিদে নববীসহ অন্য মসজিদগুলোতেও রোজাদারদের ইফতার করাতে মসজিদের পাশে ছোট-বড় তাবু টাঙানোসহ নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বাড়ছে না

সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বাড়ানোর আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক।
বুধবার জাতীয় সংসদে ফিরোজা বেগম চিনুর টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই।’
মো. আয়েন উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি চাকরিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রথা বাতিল করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। বিশেষায়িত পদে এবং যেসব সংস্থার কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবল সঙ্কট রয়েছে, সেসব সংস্থায় উপযুক্ত যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গকে সরকার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে থাকে। এছাড়া প্রশাসনিক ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে যেসব দপ্তর/সংস্থা দ্রুত জনবল নিয়োগ করা সম্ভব হয় না সেসব দপ্তর/সংস্থায়ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদেরকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে জনবল সঙ্কট নিরসনসহ সরকারি কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়। যে কারনে জনস্বার্থে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা এখনো আছে।
মাহজাবিন খালেদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সচিব পদে ১০৪ জন, অতিরিক্ত সচিব পদে ৬০৮ জন, যুগ্ম সচিব পদে ১৪০৭ জন, উপসচিব পদে ১৪১৪ জনসহ মোট তিন হাজার ৫৩৩ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। জনপ্রশাসনে গতিশীলতা আনতে পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে পাবলিক সার্ভিস এ্যাক্ট প্রণয়ন করার হচ্ছে।

শিক্ষার্থীর অজান্তেই ফরম পূরণ, ১৮ কলেজকে নোটিশ

Ctg-Hsc-4 শিক্ষার্থীদের অনুমতি ছাড়াই আবেদন ফরম পূরণ করে দেয়ার অভিযোগে ১৮ কলেজেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। ঢাকা, যশোর, কুমিল্লা ও বরিশাল বোর্ডের এই ১৮টি কলেজের মধ্যে ২টি কলেজ কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছে। বাকিরা এখনো নিশ্চুপ। সঠিক জবাব দিতে না পারলে কলেজগুলোর স্বীকৃতি বাতিল করতে পারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. আসফাকুস সালেহীন বাংলামেইলকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে তারপরই ১৮টি কলেজকে চিহ্নিত করে কারণ দর্শানোর চিঠি দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত (বুধবার বিকেল) দুইটি কলেজ নোটিশের জবাব দিয়েছে। বাকিরাও আগামী দু’একদিনের মধ্যে জবাব দেবে বলে আশা করছি। নোটিশের জবাব না দিতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি ও স্বীকৃতি বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তির প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ঢাকা, যশোর, কুমিল্লা ও বরিশাল বোর্ডের ১১টি কলেজকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা বোর্ডে আরো প্রায় ১৫টি কলেজকে নজরদারিতে রেখেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত ঢাকা বোর্ডের কলেজগুলো হলো- রাজধানীর দক্ষিণখানের মোল্লারটেক উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নারায়ণগঞ্জের আমলাপাড়া গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, টঙ্গীর সাহাজ উদ্দিন সরকার মডেল হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল ও টঙ্গী কলেজ। আর যশোর বোর্ডের অধীনে কলেজগুলো হলো- যশোরের চৌগাছা ডিগ্রি কলেজ, চৌগাছার এ.বি.সি.ডি কলেজ, চৌগাছার জিসিবি কলেজ, চৌগাছার মৃধাপাড়া মহিলা কলেজ, খুলনার পাইকগাছার লক্ষীখোলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাগুরার শালিখা’র আড়পাড়া কলেজ, যশোর চৌগাছার আজ-জামতলা কলেজ।
তবে অন্যান্য বোর্ডের কলেজগুলোর নাম এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সূত্রে আরো জানা যায়, কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া কলেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চলতি বছর মাধ্যমিক বা এসএসসি পরীক্ষা যারা উত্তীর্ণ হয়েছে, সেসব শিক্ষার্থীর অনুমতি না নিয়ে তাদের রোল নম্বর সংগ্রহ করে নিজেরাই অনলাইনে ভর্তির আবেদন ফরম পূরণ করেছে তারা। এখন শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে গেলে তাদের আবেদন হয়ে গেছে ফরমে উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, অনলাইন ও এসএমএসের মাধ্যমে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির আবেদনে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির অভিযোগের স্তূপ জমেছে শিক্ষাবোর্ডগুলোতে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগে হিমশিম খাওয়া বোর্ডগুলো সম্মিলিতভাবে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির সময়সীমাও তিনদিন বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২১ জুন পর্যন্ত একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে।
এ বিষয়ে আসফাকুস সালেহীন বলেন, ‘অনলাইনে ভর্তিতে শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের সমস্যার অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। সেসব সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়টি আসলে সবার জন্যই করা হয়েছে। অনেকেই নানা সমস্যার কারণে আবেদন করতে পারেননি। সব মিলিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে।’
বুধবার বিকেল পর্যন্ত সারা দেশে থেকে প্রায় তিন হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলোতে। তবে এর মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের ভুল বলে জানা গেছে। তবে নানা ধরনের অভিযোগ পড়েছে প্রায় হাজার খানেক। অধিকাংশ অভিযোগই অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে দেখতে পাচ্ছে, তাদের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গেছে। আবেদনে যেসব পছন্দের কলেজের নাম এসেছে তার কোনটিই তাদের পছন্দের নয়। এর বাইরে অনলাইনে আবেদন শেষ করে টেলিটকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধে সমস্যা, টাকা পাঠানো হলেও ফিরতি ম্যাসেজ না পাওয়া ইত্যাদি।
এসব সমস্যা সমাধান করার জন্য গত ৬ জুন থেকে শুরু হওয়া অনলাইনে ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়ার সংশোধনও আনা হয়। প্রাথমিকভাবে শুধু শিক্ষাবর্ষ, শিক্ষাবোর্ড ও রোল নাম্বার দিয়ে আবেদন করা যেতো।
পরবর্তী সময়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বরও যোগ করা হয়। কিন্তু তারপরও নানাবিধ সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগের বিষয়ে আসফাকুস সালেহীন বলেন, ‘আমাদের কাছে নানা সমস্যার অভিযোগ এসেছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে যেসব সমস্যার সমাধান করে দিচ্ছি। গত কয়েকদিনের তুলনায় আজকে (বুধবার) অভিযোগের সংখ্যা অনেক কম। আশা করছি, ২১ জুনের মধ্যে সকল শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে।’
এদিকে, বুধবার পর্যন্ত ৮টি সাধারণ, কারিগরি ও মাদরাসা- এই ১০টি শিক্ষাবোর্ড থেকে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন ১০ লাখ ৭ হাজার ৭৬ জন শিক্ষার্থী। তারা মোট ২৭ লাখ ৭৫ হাজার ৯৪৭টি আবেদন করেছে। ২১ জুন আবেদন প্রক্রিয়া শেষে ২৫ জুন ফলাফল প্রকাশ পাবে। আর ১ জুলাই থেকে একাদশ শ্রেণীর ক্লাস শুরু হবে।

মরণোত্তর সম্মাননা পেলেন প্রথম কম্পিউটার অপারেটর

বাংলাদেশের প্রথম কম্পিউটার অপারেটর নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার হুলহুলিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান মো. হানিফ মিয়াকে মরণোত্তর সম্মাননা পদক দেয়া হয়েছে। আজ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে আইসিটি এক্সপোর সমাপনী অনুষ্ঠানে তার পরিবারের হাতে পদক  তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। মো. হানিফের পক্ষে পদক গ্রহণ করেন তার স্ত্রী, পুত্র শরীফ হাসান সুজন এবং নাতি ইরফান।
বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহায়তায় এই পুরস্কার দেয়া হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সভাপতি এএইচএম মাহফুজুল আরিফ, আইসিটি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, তথ্য ও প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বারসহ অন্যান্যরা।
hanif
ঢাকায় ১৯৬৪ সালে প্রথম কম্পিউটার আসে। কম্পিউটারটি ব্যবহার করা হয় পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে। সেখানে তিনি প্রথম কম্পিউটারটি ব্যবহার করেন। সেটি ছিল একটি আইবিএমের মেইনফ্রেম কম্পিউটার। ওটার মডেল ছিল ১৬২০।
ঐ কম্পিউটারটি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে পাঠায়। কিন্তু এই যন্ত্র আগে পশ্চিম পাকিস্তানের বাসিন্দাদের কেই চোখে দেখেনি। তাই কেউ এটি ব্যবহারও করতে পারে না। অনেক খোঁজাখুঁজি করে পূর্ব পাকিস্তানের একজনকে পাওয়া যায়। তার নাম মো. হানিফ। তিনি এই কম্পিউটারের ব্যবহার জানেন। ইতোপূর্বে তিনি অ্যানালগ কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বিষয়ে ট্রেনিং করেছেন।
কিন্তু হানিফ মিয়া পাকিস্তানের লাহোরে গিয়ে এই কম্পিউটার চালাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ফলে পাকিস্তানের সরকার নিরুপায় হয়ে পূর্ব পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয় কম্পিউটারটি।
ঢাউস আকৃতির সেই মেইনফ্রেম কম্পিউটারটি ঠাঁই হয় ঢাকার আণবিক শক্তি কমিশনের কার্যালয়ে। সেখানে হানিফ কম্পিউটারটি ব্যবহার শুরু করেন।
হানিফ মিয়ার জন্ম হয় ১৯২৯ সালের ১ নভেম্বরে নাটোরের সিংড়া উপজেলায়। তিনি মারা যান ২০০৭ সালের ১১ মার্চ।

বৃষ্টিতে ভেসে যেতে পারে ওয়ানডে সিরিজ

যে বৃষ্টির কারণে ধুয়ে গেলো ফতুল্লা টেস্ট, সেই বৃষ্টিই এবার হুমকিতে ফেলছে ওয়ানডে সিরিজকে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজেও বৃষ্টি হওয়ার জোর সম্ভাবনা আছে, এমনটাই জানাচ্ছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস। সোমবারের আবহাওয়ার খবর অনুযায়ী, রাজধানীসহ সারাদেশে আগামী তিন দিনে টানা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ২৪ জুন পর্যন্ত বৃষ্টিপাত থাকবে বলেও জানানো হচ্ছে। অর্থাৎ, সিরিজের শেষ ম্যাচের দিনেও বৃষ্টির জোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে বর্ষাকাল। এফটিপির সূচির কারণেই, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার জুনে টেস্ট ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছিলো ফতুল্লাতে, যার ফলাফল পাঁচ দিনের মধ্যে সবমিলিয়ে দুই দিন খেলতে পেরেছে বাংলাদেশ-ভারত।
বাংলাদেশ-ভারত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচগুলো হবে ১৮, ২১ ও ২৪ জুন। মিরপুরে সবকটিই শুরু হবে দুপুর তিনটায়। বৃষ্টির মৌসুমকে মাথায় রেখে রাখা হয়েছে ‘রিজার্ভ ডে’।

কম্পিউটারে নগ্ন ছবি রাখার দায়ে যুবকের কারাদন্ড

কম্পিউটারে নগ্ন ছবি রাখার দায়ে এক যুবককে এক মাসের কারাদন্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত সোমবার সন্ধ্যায় পৌর সদরের সরল বাজারে অভিযান চালিয়ে নগ্ন ছবি রাখার দায়ে গোপালপুর গ্রামের জনৈক শহীদুল গাজীর পুত্র সুজন গাজীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদ- প্রদান  এবং তার ব্যবহৃত কম্পিউটারটি জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কবির উদ্দিন।

কোটচাঁদপুর-মহেশপুরে মাদক সিন্ডিকেড সক্রিয়

ঝিনাইদহের সীমান্ত সংলগ্ন মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলায় বেপরোয়া মাদক ব্যবসা চলছে। কখনও কখনও শীর্ষ জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সুশিল সমাজ ও প্রশাসনের কর্তাদের চাপের মুখে  মাদক ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেডের বিরুদ্ধে পুলিশ নিরুপায় হয়ে অভিযান শুরু করলেও তাদের বাণিজ্য ঘাটতির আশংকায় তা আর স্থায়ী হয়না ।
অন্যদিকে কোটচাঁদপুর শহরের মাঠপাড়া এলাকায়  কথিত এক সাংবাদিকের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে বিশাল মাদক সিন্ডিকেড। এ সিন্ডিকেডের আওতায় প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি মাদক চোরাকারবারির কাজ করছে। তারা মাদক আমদানিসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের আমদানিকৃত নেশাজাত দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় মদ, ফেন্সিডিল, ইয়াবা ও গাঁজা। আমদানি করা মাদকের একটি বড় অংশ কোটচাঁদপুর শহরের বিভিন্ন মাদক স্পট ও আলমপুর ব্রীজঘাট এলাকায় বিক্রি হচ্ছে। পুলিশ সোর্স ওই মাদক  বিক্রেতাকে প্রায়শই তার নিজস্ব সাদা প্রাইভেটে চড়ে কোটচাঁদপুর-কালীগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোষ্ট বসিয়ে বিভিন্ন পরিবহনে তল্লাশি করতে দেখা যাচ্ছে। মাঝে মাঝে তার সাথে পুলিশের মধ্যম সারির অফিসার ও কনেস্টবলদের থাকতে দেখা যায়। এতে মাদক উদ্ধার হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আটককৃতদের কাছ থেকে মোটা দাগের টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ  রয়েছে। মাদকসহ কাউকে গ্রেফতার করা হলেও সিংহভাগ গায়েব করে ১০/১৫ বোতল উদ্ধার দেখান হচ্ছে ।
জানা যায়, গত ১৩ মে চৌগাছা উপজেলার জগদিশপুর ইউনিয়নের দক্ষিণসাগর গ্রামের সবুরকে মটর সাইকেল ও শতাধিক বোতল ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার করে মহেশপুর পুলিশ। অভিযোগ আছে  গ্রেফতারের  মাত্র চার ঘন্টার মাথায় ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। গত ৯ জুন বিকালে কোটচাঁদপুর শহর সংলগ্ন মহেশপুরের আলমপুর ব্রীজঘাটে  বাজার বণিক সমিতির ব্যানারে সচেতন নাগরিক সমাজ ব্যবসায়ি ও জন প্রতিনিধিরা মাদক বিক্রি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে আজমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও বাজার বণিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান আলী, সম্পাদক আলী হোসেন মোল্যা ইউপি সদস্য, সুশিল সমাজের প্রতিনিধিসহ সচেতন নাগরিকগণ অংশ নেন। মানববন্ধনে  বক্তারা বলেন, ব্রীজঘাট এলাকায় দানেজের ছেলে আশরাফের নেতৃত্বে অবাধে মাদক বিক্রি করা হচ্ছে। তাঁরা এ ঘটনার জোর প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে মাদক বিক্রি বন্ধের জন্য পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেন। কিন্তু এতেও পুলিশের কোন টনক নড়েনি। বরং ঠিক ঠাকভাবেই চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। সরেজমিনে  তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে প্রতি বোতল ভারতীয় মদ ১ হাজার ২শ’ থেকে ২ হাজার ৫শ’ টাকা দরে প্রতিদিন ৪০-৪৫ পিচ, ফেন্সিডিল ৪শ’ থেকে ৪শ’ ৫০ টাকা দরে ১শ’ ৫০ থেকে ১শ’ ৮০ পিচ, ইয়াবা ১শ‘ ৩০ থেকে ১শ’ ৫০ টাকা দরে ১শ’ ৪০ থেকে ১শ‘ ৫০ পিচ ও প্রতি পুরিয়া গাঁজা ৩০ থেকে ৫০ টাকা করে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ পুরিয়া বিক্রি হচ্ছে।
গত ১৪ মে কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ কোটচাঁদপুর কালীগঞ্জ সড়কের এলাংগি থেকে ফেন্সিডিল বহনকারী একটি ট্রাকসহ মাদক ব্যবসায়ি ও ট্রাকচালককে আটক করে। পরবর্তিতে ৪ লাখ টাকা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগে জানা যায়।  ১৯ মে দুপুরে মাইক্রোচালক রেজাউল সিন্ডিকেডের সদস্য আব্দুল খালেকে ঢাকা মেট্রো-ক-০৩-৯৭২৫ নম্বর প্রাইভেটসহ জনৈক মাদক ব্যবসায়িকে আটক করে। আটকের পর খালেকের মধ্যস্থতায় ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে মাদকসহ তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। ঘটনার পরদিন বিকালে উক্ত খালেক উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনকে নিয়ে ছিনতাই করে পালাবার সময়  জনতার হাতে ধরা পড়ে। জনতা ছিনতাই করা মটর সাইকেল, নগদ ৮০ হাজার টাকা ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত ওই প্রাইভেটটি আটক করে  পুলিশে সোপর্দ করে। উক্ত প্রাইভেটটি বর্তমানে থানার সামনে পড়ে আছে। ২৮ মে সকালে কোটচাঁদপুর থানায় ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত হয়। থানা অফিসার ইনচার্জ আহমেদ কবীরের সভাপতিত্বে মেয়র সালাউদ্দিন বুলবুল সিডল, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার আজবাহার আলী শেখ, কোটচাঁদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুধি মহল উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান স্থলে স্থানীয় আমন্ত্রিতরা পুলিশের কৃতকর্মের জোর সমালোচনা করেন । তাঁরা পুলিশের পালিত সোর্স কর্তৃক জন হয়রানি, তদবীরবাজ দৌরাত্ম, গ্রেফতারের পর অপরাধীকে ছেড়ে দেয়া ও দালালদের কঠোর সমালোচনা করেন। এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানে হৈচৈ শুরু হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে থানা কর্তা নড়ে চড়ে বসেন। এক পর্যায়ে গত ৭জুন  শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ি জবেদা (৪২) ও কালিয়া (৪০) কে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায় ।

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত দুর্ভোগ বেড়েছে ৩০ হাজার বানভাসীর


গত ৫ দিন ধরে জেলার ৬ উপজেলার ২৪ ইউনিয়নের নদ-নদী তীরবর্তী দেড়শতাধিক গ্রাম, চর ও দ্বীপচর গুলো তলিয়ে আছে। এসব এলাকার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানি বন্দী জীবন-যাপন করছে। বন্যার্তদের মাঝে দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। পাশাপাশি গৃহপালিত পশুপাখির খাদ্য সংকট নিয়েও চরম বিপাকে পড়েছে বানভাসীরা। গ্রামীণ কাঁচা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। এ অবস্থায় নৌকা ও কলাগাছের ভেলাই একমাত্র ভরসা।

চিলমারী উপজেলার অষ্টমীর চরের আনছার আলী জানান, পানির জন্যে কোন দিকে বেড়াইতে পারি না। নৌকা নাই, হাটবাজার যাবার পাই না। খাওয়া-দাওয়ার খুব সমস্যায় আছি। গত ৫ দিন ধরে কাজ নাই। ঘরত খাবার নাই। গরু-ছাগল নিয়া খুব সমস্যায় আছি। কি হবে আল্লাই জানে।

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত দুর্ভোগ বেড়েছে ৩০ হাজার বানভাসীর thumbnail
তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি ও অন্যান্য নদ-নদীর পানি সামান্য হ্রাস পেলেও কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে দুধকুমর নদীর প্রবল শ্রোতে ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট ব্রীজের পাইকের ছড়া এলাকায় সংযোগ সড়কের ধ্বস দেখা দেয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চরযাত্রাপুর গ্রামের আমেনা বেগম জানান, ৫ দিন ধরে ছেলে মেয়ে নিয়ে পানির মধ্যে আছি। নলকুপে পানি উঠছে। বাইরে থেকে পানি আনি খাওয়া লাগে। নৌকা নাই, খাবার নাই। খুব কষ্টে আছি।
এদিকে বন্যা কবলিত মানুষের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ৫০ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দেয়া হলেও তা এখনও বানভাসীদের মাঝে বিতরন শুরু হয়নি।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক এবিএম আজাদ জানান, জেলায় বন্যা কবলিতদের জন্য ৫০ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা দ্রত বিতরন করা হবে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৫ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

রাজারহাটের ঘড়িয়াল ডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে ক্লাশ করছে ছাত্র-ছাত্রীরা

রাজারহাটের ঘড়িয়াল ডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে ক্লাশ করছে ছাত্র-ছাত্রীরা thumbnail
কুড়িগ্রামে রাজারহাটের ঘড়িয়াল ডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরেও ভবনের বারান্দা ও মাঠে চলছে পাঠদানের কার্যক্রম। বিদ্যালয়টিতে হয়নি কোন সংস্কার কিংবা নতুন ভবনের ব্যবস্থা। এতে আতংকিত হয়ে পড়েছে অভিভাবক মহল। বিদ্যালয়ের বেহালদশার কারণে কমতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার শত বছরের পুরাতন ঘড়িয়াল ডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এটি নির্মিত হয় ১৯১৪ সালে । ১৯৬৮ সালে বিদ্যালয়টিতে ৫ রুম বিশিষ্ট একতলা ভবন নিমার্ণ করা হয়। সর্বশেষ ২০০৯ সালে এই বিদ্যালয়ের ছাদ সংস্কারে ৭০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও নির্মিত হয়নি কোন নতুন ভবন। ফলে শিক্ষকরাও বিদ্যালয়ের বারান্দা এবং মাঠে ক্লাশ করে চালিয়ে যাচ্ছেন পাঠদানের কার্যক্রম।
উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কয়েকবার পরিদর্শন করে ২০১৩ সালে সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ক্লাস নেয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিলেও উপায় না থাকায় এভাবেই চলছে স্কুলটি। পরিত্যক্ত রয়েছে ২টি ক্লাস রুমও। এতে করে স্কুলটির মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে অসন্তুষ্ঠি প্রকাশ করেছেন অভিভাবক মহল।
ভবনটিতে ফাটল ও পলেস্তারা খুলে খুলে পড়ছে। নানা সংকটে জরাজীর্ণ স্কুলটিতে বর্তমানে ২শ ৩৯ জন ছাত্র-ছাত্রী পড়াশুনা করছে। বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় কিছু ছাত্র-ছাত্রীদের  একটি রুমে গাদাগাদী করে ক্লাশ করতে হয়। আর কিছু ছাত্র-ছাত্রীকে বারান্দা অথবা খোলা মাঠে  পাঠদান করান শিক্ষকরা। দূর্ঘটনা এড়াতে অনেক অভিভাবক সরিয়ে নিচ্ছেন তাদের সন্তানদের।
শিক্ষার্থীরা বলছে দীর্ঘদিন থেকে বাইরে ক্লাস করায় তারা নানানমুখি সমস্যায় পড়ছে। ঝড়-বৃষ্টি হলেই আতংকে ছুটে চলে যায় বাড়ি। আর এতে করে তারা চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে পড়াশুনায়।
বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাত্র সোহেল জানান, আমাদের ক্লাস রুম নাই। আমরা কষ্ট করে পড়া-লেখা করছি। আমরা আমাদের ক্লাস রুম চাই।
বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর অবিভাবক নজরুল ইসলাম জানান, এভাবে কোন বিদ্যালয় চলতে পারে না। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ না করলে আমি আর আমার মেয়েকে ঐ স্কুলে পাঠাবো না।
ঘড়িয়াল ডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক, ফাতেমা খাতুন জানান, রোদ, বৃষ্টি উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বারান্দার নীচে বা মাঠে বসে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশুনা করছে। এতে তারা যেমন কষ্ট পাচ্ছে, তেমন বিড়ম্বনায় আছে শিক্ষকরাও।
রাজারহাট উপজেলা শিক্ষা অফিসার আকতারী পারভীন জানান, ঘড়িয়াল ডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যারয় ভবনটি ঝুকিপূর্ণ হওয়া সেটি পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মার্ণের জন্য একাধিকবার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মার্ণের কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। দ্রুত সরকার শত বছরের পুরাতন এই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার মান ঠিক রাখতে নতুন ভবন নির্মাণের অনুরোধ করেন।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার জানান, উপজেলা শিক্ষা কমিটি ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে বার বার নতুন ভবন নির্মাণের চিঠি পাঠনো হচ্ছে। কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণের বরাদ্দ না আসায় ভবন নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না।

কয়েদির অভাবে ৮ কারাগার বন্ধ

বন্দীশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে নেদারল্যান্ডসের অনেক কারাগার। কয়েদির ভারে যখন যুক্তরাজ্যের কারাগারগুলো ন্যুব্জ, তখন উল্টো ঘটনা ঘটেছে নেদারল্যান্ডসে। কয়েদির অভাবে দেশটির আটটি কারাগার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়েছে বলে হাফিংটন পোস্ট-এর খবরে আজ মঙ্গলবার জানানো হয়েছে। খবরে বলা হয়, এমনিতেই নেদারল্যান্ডসে অপরাধের হার অনেক কম। দেশটির কারাগারে ১৪ হাজার কয়েদি রাখার ব্যবস্থা আছে। তবে এখন বন্দী আছে ১২ হাজার।
অপরাধীর সংখ্যা আরও কমবে, এমন আশাবাদের কথা জানিয়েছেন দেশটির উপবিচারমন্ত্রী নেবাহাত আলবেরাক। কয়েদির সংখ্যা কম হওয়ার পরও অপ্রয়োজনে এই খাতে খরচের কোনো প্রয়োজনও দেখছে না সরকার।
তবে এর আগে ৬০টির বেশি সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান দ্য ক্রিমিনাল জাস্টিস অ্যালায়েন্স (সিজেএ) কারাগারের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার সীমিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। কারাগারে শুধু গুরুতর ও সহিংস অপরাধীদের রাখার পক্ষে মত ছিল তাদের। এমন আহ্বানের কিছুদিন পরই সরকার এ পদক্ষেপ নিল।

বেড়ায় বর্ষা মৌসুম শুরুতেই যমুনায় মাছের প্রজনন বিঘি্নত

পাবনার বেড়ায় যমুনা নদীসহ যমুনার শাখা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে যমুনা ও শাখা নদী করতোয়ার দুই পাড়ের নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে প্লাবিত হতে শুরু করেছে। যমুনার পানি বৃদ্ধি শুরুর পর থেকেই যমুনা নদী তীরবর্তী শাহজাদপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে দেশী প্রজাতির ডিমওয়ালা মা মাছ ও পোনা মাছের আনাগোনা শুরু হয়েছে। সেই সুযোগে বর্তমান প্রজনন মৌসুমে যমুনাসহ শাখা নদীগুলোতে অসাধু জেলেদের অতৎপরতা পূর্বের তুলনায় বহুলাংশে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এসব অসাধু জেলেরা অবৈধ কারেন্ট, বাদাই, মশুরিজালসহ অতি ক্ষুদ্র বিশিষ্ট জাল দিয়ে যমুনা নদী থেকে ডিমওয়ালা মা মাছ ও পোনা মাছ শিকারের মহোৎসবে মেতে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, যমুনায় পানি বৃদ্ধি শুরুর পর থেকেই দেশী বিভিন্ন প্রজাতির ডিমওয়ালা মা মাছের প্রজনন সবচেয়ে বেশি পরিমাণ হয়ে থাকে। এ সময় যমুনা নদীতে পোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন বন্ধ করা না গেলে শুষ্ক মৌসুমে মাছের চরম আকাল দেখা দিবে। ফলে দেশে আমিষের চাহিদা পূরণে বিদেশ থেকে মাছ আমদানির উপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পাবে। জানা গেছে, যমুনা নদীর শাহজাদপুর অংশসহ পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জের কাজিরপুর, চৌহালী, এনায়েতপুর, পাবনা জেলার বেড়ার আংশিক, মানিকগঞ্জ, রংপুর, বগুড়ার গাবতলী, সারিয়াকান্দি ও টাঈাইল অংশে শত শত ছোট বড় নৌকা নিয়ে অসাধু জেলেরা কারেন্ট, বাদাই, মশারিসহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল নিয়ে পোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছ শিকার করছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, যমুনা তীরবর্তী শুধুমাত্র শাহজাদপুর উপজেলাতেই প্রতিদিন অসাধু জেলেরা বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল দিয়ে লাখ লাখ টাকার দেশী প্রজাতির ডিমওয়ালা মা মাছ ও পোনা মাছ শিকার করে। শাহজাদপুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য যমুনা নদী এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো দেশী প্রজাতির মা মাছ ও পোনা মাছ প্রায় শূন্য হয়ে গেছে। এক শ্রেণীর প্রভাবশালী চক্র স্থানীয় মৎস্য অফিস থেকে জেলেদের নামে মৎস্য আহরণের অনুমোদন না নিয়েই মাছের প্রজনন মৌসুমে অবাধে পুরোদমে এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

মুজাহিদের ফাঁসি বহাল

সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজা বহাল থাকায় একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিকাষ্ঠেই যেতে হচ্ছে জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার মাত্র দুই মিনিটে এই রায়ের সংক্ষিপ্তসার জানিয়ে দেন। আর সর্বোচ্চ সাজার এই রায় আসে বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার চেষ্টায় বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে। এই বেঞ্চের বাকি তিন সদস্য হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এই প্রথম বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করা কোনো রাজনীতিবিদ একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলতে যাচ্ছেন। বিগত চার দলীয় জোট সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মুজাহিদই যে চার দশক আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী জনগণকে দমাতে গঠিত আলবদর বাহিনীর মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তা উঠে আসে এই মামলার রায়ে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বুদ্ধিজীবী হত্যা এবং সাম্প্রদায়িক হত্যা-নির্যাতনের দায়ে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আনা সাতটি অভিযোগের মধ্যে প্রথম অভিযোগে সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনকে অপরণের পর হত্যা এবং ষষ্ঠ অভিযোগে বুদ্ধিজীবীসহ গণহত্যার ষড়যন্ত্র ও ইন্ধনের অভিযোগে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে ওই দন্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছিল বিচারিক আদালত। একই রায় এসেছিল সপ্তম অভিযোগে, ফরিদপুরের বকচর গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বর্বর হামলা চালিয়ে হত্যা-নিযার্তনের ঘটনায়। আপিল বিভাগের রায়ে প্রথম অভিযোগে আসামির আপিল মঞ্জুর করে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। সপ্তাম অভিযোগে তার সাজা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদন্ড। আর ষষ্ঠ অভিযোগে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রেখে মুজাহিদের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। পঞ্চম অভিযোগে সুরকার আলতাফ মাহমুদ, গেরিলা যোদ্ধা জহিরউদ্দিন জালাল ওরফে বিচ্ছু জালাল, শহীদজননী জাহানারা ইমামের ছেলে শাফি ইমাম রুমি, বদিউজ্জামান, আবদুল হালিম চৌধুরী জুয়েল ও মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদসহ কয়েকজনকে ঢাকার নাখালপাড়ায় পুরনো এমপি হোস্টেলে আটকে রেখে নির্যাতন এবং জালাল ছাড়া বাকিদের হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার জন্য ট্রাইব্যুনালে মুজাহিদকে দেয়া হয়েছিল যাবজ্জীবন কারাদন্ড। আপিল বিভাগের রায়ে সেই সাজাই বহাল রাখা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে তৃতীয় অভিযোগে ফরিদপুর শহরের খাবাসপুরের রণজিৎ নাথকে অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয় মুজাহিদকে। ওই সাজা তার প্রাপ্য বলে আপিল বিভাগও মনে করেছে। এছাড়া দ্বিতীয় অভিযোগে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে হিন্দু গ্রামে গণহত্যা এবং চতুর্থ অভিযোগে আলফাডাঙ্গার আবু ইউসুফ ওরফে পাখিকে আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলেও তাতে মুজাহিদের সংশ্লিষ্টতা প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে না পারায় ট্রাইব্যুনাল মুজাহিদকে খালাস দিয়েছিল। এ কারণে এ দুটি অভিযোগ আপিল বিভাগের রায়ে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দন্ডিতদের মধ্যে মুজাহিদ হলেন চতুর্থ ব্যক্তি, আপিল বিভাগে যার মামলার নিষ্পত্তি হল। ২১ আগস্ট গ্রেনেড মামলায় হাজিরার জন্য মুজাহিদকে আগের দিন নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল। আপিল বিভাগ যখন যুদ্ধাপরাধ মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করছে, ৬৭ বছর বয়সী এই জামায়াত নেতা তখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। মুক্তিযুদ্ধকালীন আলবদর বাহিনীর কমান্ডার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় বহাল থাকায় আদালতের বাইরে এ মামলার সাক্ষী ও মুক্তিযোদ্ধারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম বলেন, আসামি মুজাহিদের ফাঁসির রায় এসেছে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে। এই রায়ে বাংলাদেশের সবাই খুশি হবে। এক শতাব্দীতে এরকম বুদ্ধিজীবী তৈরি হবে না। তবে এইটুকু সান্ত্বনা, বিচার পাওয়া গেল। অন্যদিকে মুজাহিদের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, মৃত্যুদন্ড দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ এ মামলায় ছিল না বলেই তিনি মনে করেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পেলেই তারা রিভিউ আবেদন করবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রায়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এটা বিচার। বিচারিক প্রক্রিয়ায় হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। নিয়ম অনুযায়ী, এখন আপিলের রায় ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে। সেটি হাতে পেলে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবে ট্রাইব্যুনাল। সেই মৃত্যু পরোয়ানা ফাঁসির আসামিকে পড়ে শোনাবে কারা কর্তৃপক্ষ। সুপ্রিম কোর্ট এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর ১৫ দিনের মধ্যে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করতে পারবে আসামিপক্ষ। তবে রায়ের নির্ভরযোগ্যতায় 'খাদ আছে' বা 'বিচার-বিভ্রাটের' আশঙ্কা আছে বলে মনে করলেই আদালত তা পুনর্বিবেচনার জন্য গ্রহণ করবে। রিভিউ যে আপিলের সমকক্ষ হবে না, তা যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার 'রিভিউ' খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়েই স্পষ্ট করা হয়েছে। রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি হয়ে গেলে এবং তাতে মৃত্যুদন্ড বহাল থাকলে আসামিকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি স্বজনদের সঙ্গে দেখাও করতে পারবেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমার বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেলে সরকার কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। দুই জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা ও মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের রায় বাস্তবায়নের আগে পালিত প্রক্রিয়াগুলো এক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হিসাবে থাকছে।
বদর নেতা থেকে মন্ত্রী
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২ জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার পশ্চিম খাবাসপুরে। ১৯৬৪ সালে মাধ্যমিক পাসের পর তিনি ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন এবং উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র থাকাকালেই জামায়াতের তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘে যোগ দেন। ১৯৬৮ সালে তাকে সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। ১৯৭১ সালে বাংলার মানুষের স্বাধীনতার সংগ্রাম যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, সেই বছর জানুয়ারিতে ইসলামী ছাত্রসংঘের ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি হন মুজাহিদ। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর জুলাই মাসে সংগঠনের পূর্ব পাকিস্তান শাখার সেক্রেটারির এবং এরপর প্রাদেশিক সভাপতির দায়িত্ব পান। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতায় ইসলামী ছাত্রসংঘের সদস্যদের নিয়ে আলবদর বাহিনী গঠিত হলে ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার নেতৃত্ব দেন ইসলামী ছাত্রসংঘের তখনকার সভাপতি ও জামায়াতের বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামী। অক্টোবরে ওই বাহিনীর প্রধান হন মুজাহিদ। তার নেতৃত্বে আলবদর বাহিনী যুদ্ধের মধ্যে ফরিদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা, অপহরণ, লুটপাটের মতো ব্যাপক মানবতাবিরোধী কর্মকান্ড চালায় বলে আদালতের রায়ে উঠে এসেছে। এমনকি ১৬ ডিসেম্ব্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের প্রস্তুতির সময়ও বাহিনী নিয়ে আত্মসমর্পণ না করার সিদ্ধান্ত নেন মুজাহিদ। একাত্তরে তার কর্মকান্ডের ঘনিষ্ঠ সহযোগী পলাতক আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারকেও যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। স্বাধীনতার পর মুজাহিদ জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ১৯৮২ সালে কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য হন। ১৯৮৯ থেকে দুই বছর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালনের পর ২০০০ সালে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল হন তিনি। কোনো নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলেও বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান মুজাহিদ। জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামের পরিচালনা পর্ষদেরও প্রধান ছিলেন তিনি। যুদ্ধাপরাধের মামলায় গ্রেফতার হওয়ার আগে ২০১০ সালের মার্চে জামায়াতে ইসলামীর এক সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করেছে। কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধের মতো কোনো ধরনের অপরাধে জামায়াত নেতারা জড়িত ছিলেন না।
বিচার পরিক্রমা
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগের একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে গ্রেফতার করার পর ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়। মামলার শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ২০১২ সালের ২১ জুন ট্রাইব্যুনালে মুজাহিদের বিচার শুরু হয়। ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই ট্রাইব্যুনালে এই জামায়াত নেতার ফাঁসির রায় আসে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ১১ অগাস্ট আপিল করেন মুজাহিদ। রাষ্ট্রপক্ষ আপিল না করলেও শুনানিতে অংশ নিয়ে দন্ড বহাল রাখতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। গত ২৯ এপ্রিল শুনানি শুরুর পর মঙ্গল ও বুধবার যুক্তি উপস্থাপনসহ নয় দিন আপিলের ওপর শুনানি গ্রহণ করেন বেঞ্চের চার বিচারপতি। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যার্টনি জেনারেল মো. রশির আহমেদ। আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এস এম শাজাহান। সঙ্গে ছিলেন শিশির মনির।
চতুর্থ রায়
ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত হওয়া ১৯টি মামলার রায়ের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৩টিতে দন্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হয়েছে। মৃত্যুদন্ডাদেশ পাওয়া আবুল কালাম আযাদ, চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান এবং ফরিদপুরের জাহিদ হোসেন খোকন ওরফে খোকন রাজাকার পলাতক থাকায় এ সুযোগ পাননি। আমৃত্যু কারাদন্ডপ্রাপ্ত জাতীয় পার্টির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল জব্বারও একই কারণে আপিল করতে পারেননি। মুজাহিদের মামলাসহ চূড়ান্ত রায় এসেছে চার মামলায়। এর আগে গত ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে সর্বোচ্চ সাজা দিলে চলতি বছর ১১ এপ্রিল তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদন্ড এবং তার ঠিক এক বছর আগে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদন্ড দেয় আপিল বিভাগ। ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। আপিল শুনানি চলাকালেই মৃত্যু হয়েছে জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম এবং বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিল শুনানি গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়।
মুজাহিদের ফাঁসির রায় বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে : মাহবুবে আলম
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে বদরপ্রধান আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় সর্বোচ্চ আদালতে বহাল থাকায় বাংলাদেশের সবাই খুশি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন। আসামি মুজাহিদের আপিল আংশিক মঞ্জুর হলেও তাকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদন্ড চূড়ান্ত রায়েও বহাল থাকে। রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম বলেন, আসামি মুজাহিদের ফাঁসির রায় এসেছে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে। এই রায়ে বাংলাদেশের সবাই খুশি হবে। বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে মুক্তিযুদ্ধের সময় আলবদর বাহিনী যে বুদ্ধিজীবী হত্যার মধ্য দিয়ে যে ক্ষতি করেছে, তা এক শতাব্দীতেও পূরণ হওয়ার নয়। জাতিকে মেধাশূণ্য করার যে নীল নকশা ছিল, এর চেয়ে বড় অপরাধ আর হয় না। হিটলারের যে হিংস্রতা আর এদের হিংস্রতার কোনো তফাৎ আমি দেখি না। আপিল আদালত 'সঠিকভাবেই' রায় দিয়েছে উল্লেখ করে মাহবুবে আলম বলেন, এই রায়ে বাংলাদেশের সবাই খুশি হবে। আপিল বিভাগের রায়ে প্রথম অভিযোগে আসামির আপিল মঞ্জুর করে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। সপ্তাম অভিযোগে তার সাজা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদন্ড। আর ষষ্ঠ অভিযোগে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রেখে মুজাহিদের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এক শতাব্দীতে এরকম বুদ্ধিজীবী তৈরি হবে না। তবে এইটুকু সান্ত্বনা, বিচার পাওয়া গেল। আপিল আদালত ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে এই রায় দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আজ আমি শর্ট অর্ডার চাইনি। আগেরবার চেয়েছিলাম, দেওয়া হয়নি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই আজ চাইনি। আশা করছি শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ রায় পেয়ে যাব। ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দ-িতদের মধ্যে মুজাহিদ হলেন চতুর্থ ব্যক্তি, আপিল বিভাগে যার মামলার নিষ্পত্তি হল।
রায় রিভিউএ আবেদন করবো : খন্দকার মাহবুব
একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া মৃত্যুদন্ডের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী খন্দকার মাহাবুব হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে আপিল বিভাগ রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মৃত্যুদন্ড দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ এ মামলায় ছিল না বলেই তিনি মনে করেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পেলে ১৫ দিনের মধ্যে আমরা রিভিউ আবেদন করব। সর্বোচ্চ আদালত আপিল আবেদন 'আংশিকভাবে মঞ্জুর' করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ সকালে যে রায় ঘোষণা করেন, তাতে প্রসিকিউশনের আনা প্রথম অভিযোগে মুজাহিদকে খালাস দেওয়া হয়। এই অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছিল। সাত নম্বর অভিযোগেও ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজা কমিয়ে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। আর ষষ্ঠ অভিযোগে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির রায় বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া ৫ নম্বর অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া যাবজ্জীবন এবং ৩ নম্বর অভিযোগে তার পাঁচ বছরের কারাদ-ও বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মাহাবুব বলেন, রায়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এটা বিচার। বিচারিক প্রক্রিয়ায় হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দন্ডিতদের মধ্যে মুজাহিদ হলেন চতুর্থ ব্যক্তি, আপিল বিভাগে যার মামলার নিষ্পত্তি হল।

‘রকেট’ সন্ধ্যায় সোহম-মীম


11412360_10200406821930941_2613574483563620400_nবিনোদন ডেস্ক: কলকাতার জনপ্রিয় নায়ক সোহম ঢাকায় আসছেন, এমন খবর গেল কয়েকদিন ধরেই চলচ্চিত্র অঙ্গনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাই তাকে নিয়ে বাড়তি আগ্রহটাও চোখে পরার মতো ছিলো। সে যাই হোক বাংলাদেশের নায়িকা মিষ্টি জান্নাতের সঙ্গে ‘আমার প্রেম তুমি’ নামে একটি ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পারছিলেন কলকাতার নায়ক সোহম। সম্প্রতি থাইল্যান্ডে ছবিটির শুটিং শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ‘রকেট’ নামে একটি যৌথ প্রযোজনার ছবির মহরত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সোমবার এক ঝটিকা সফরে থাইল্যান্ড থেকে ঢাকায় আসেন সোহম।
সোমবার সন্ধ্যায় নির্ধারিত সময়ে বেশ খানিকটা পর রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে শুরু হয় ‘রকেট’ ছবির মহরত অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সঙ্গে ছিলেন ‘রকেট’ ছবির নায়ক সোহম, নায়িকা বিদ্যা সিনহা মীম , পরিচালক কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া লিপুসহ আরো অনেকে।
সোহম-মিমঅনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পাইরেসির কারণে প্রযোজকরা লাভবান হতে পারছে না, তাই সরকার পাইরেসি বন্ধের জন্যে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। তাছাড়া ইউটিউবে ছবির পাইরেসি বন্ধ করতে ইউটিউব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’
এদিকে অনুষ্ঠানে কলকাতার জনপ্রিয় নায়ক সোহম বলেন, ‘আমার দাদুর বাড়ি ছিল ময়মনসিংহে। এ কারণে বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা আমার বহুদিনের। তবে ছবির কাজে আসতে পেরে ভাল লাগছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সবাই বলছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অবস্থা ভাল নয়। আসলে আমাদের কলকাতার অবস্থা যে খুব ভালো, তা নয়। তবে ভাল কাজ দিয়ে নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব। আর এটা কারো একার পক্ষে সম্ভব নয়।’
অন্যদিকে মডেল ও অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মীম বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে সোহমের অনেক বড় ফ্যান আমি। একারণে ছবিটি নিয়ে আগ্রহও বেশি আমার। তাছাড়া ছবির পরিচালক রাজা চান্দের সঙ্গে বিজ্ঞাপনের কাজ করেছি। আশা করছি, সবাই মিলে ভাল একটা ছবি উপহার দিতে পারব।’
উল্লেখ্য, দুই বাংলার ছবি ‘রকেট’ যৌথভাবে পরিচালনা করছেন বাংলাদেশের কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া লিপু এবং ভারতের রাজা চান্দ। শিগগিরই ছবিটির শুটিং শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা।