সারাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সারাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি আবিদ, সম্পাদক প্রিন্স

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আবিদ আল হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স।
বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল ইসলাম এ কথা জানান।গত ১১ জুন ঢাবিতে শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনের পর বৃহস্পতিবার বিকালে এই কমিটি ঘোষণা করা হলো।
বরিশালের ছেলে আবিদ আল হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের এবং বাগেরহাঠের ছেলে মোতাহার হোসেন প্রিন্স ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।আবিদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আর প্রিন্স ছিলেন ঢাবির মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

বকশীগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে পারছে না ৩ নারী ইউপি সদস্য!


জামালপুর জামালপুরের বকশীগঞ্জে ভিজিডির চাল বিতরণে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ৩ নারী সদস্যকে  লাঞ্ছিত করে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বের করে দিয়েছে চেয়ারম্যান। ভবিষ্যতে পরিষদে না আসতেও হুমকি দেয় চেয়ারম্যান। একারণে তারা ইউনিয়ন পরিষদে যেতে পারছে না। তবে ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন তাদের সাথে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে। পরিষদ থেকে বের করে দেয়ার বিষয়টি সঠিক নয়।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার নিলাক্ষিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবি গত বুধবার ৩ শ ১৫ জন ভিজিডির কার্ডধারীদের মাঝে দুই মাসের বরাদ্ধকৃত ৫০ কেজি চালের স'লে  ৪০ কেজি করে বিতরণ করছিলো। ওই সময় কার্ডধারীদের মাঝে চাল কম দেয়ার বিষয়ে প্রতিবাদ করেন ৩ নারী ইউপি নারী সদস্য। এতে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচনে আমার পছন্দের প্রার্থীকে তোমরা ভোট দাওনি। তাই আমার কাছে তোমাদের কোন কাজ নেই। এক পর্যায়ে ইউপি নারী সদস্যাদের অশ্লিল ভাষায় গালাগালি করে পরিষদ থেকে বের করে দেন। ভবিষ্যতে পরিষদে না আসার জন্য হুমকি দেন তিনি।
এ ঘটনায় ১৮ জুন ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবির বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই তিন নারী ইউপি সদস্যরা।
ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগম ও ছাবেকুন বেগম জানান, উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচনে চেয়ারম্যানের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট না দেয়ায় চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবি আমাদের উপর ক্ষিপ্ত ছিল , ওইদিন চাল কম দেয়ায় এর প্রতিবাদ করায় আমাদের  পরিষদ থেকে বের করে দিয়েছেন চেয়ারম্যান।
এব্যাপারে বকশীগঞ্জ ইউএনও নার্গিস পারভীন বলেন, নারী সদস্যদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস'া নেয়া হবে।

কোনো কাজ না করেই মিললো কাবিখার চাল!


গোপালগঞ্জে কোনো কাজ না করেই স্কুল মাঠের উন্নয়ন ও সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য এমপি কোটার কাবিখার বরাদ্দ ১০ মেট্রিকটন  চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে।

সদর উপজেলার বাজুনীয়া বঙ্ক বিহারী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার এলাকাবাসী স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সুশীল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেছেন।

বাজুনীয়া এলাকার ইব্রাহীম শেখ, অরুন কুমার ভদ্র, জামাল মোল্লা, ভোজরগাতী এলাকার হীরু সরদার ও রায়পাশা এলাকার কিরু শেখ অভিযোগ করে জাগো নিউজকে বলেন, বালু ভরাট করে  স্কুল মাঠের উন্নায়নের জন্য ৫ মেঃ টঃ এবং স্কুলে ৫টি সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য ৫ মেঃ টঃ কাবিখার চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সুশীল বিশ্বাস শিপন কোনো কাজ না করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সহযোগিতায় গত ৩১ মে চূড়ান্ত বিল উত্তোলন করে তা আত্মসাত করেন। এর আগেও আরো দু’দফায় তিনি চাল উত্তোলন করে নেন। এতে এলাকার মানুষ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে বাজুনীয়া বঙ্ক  বিহারী স্কুল গিয়ে দেখা যায়, বালু দিয়ে স্কুল মাঠ ভরাট করা হয়নি এবং কোথাও কোনো সোলার প্যানেল লাগেনি।

এ ব্যপারে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সুশীল বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দুু’টি সোলার প্যানেল কেনা হয়েছে। পাশাপাশি স্কুল মাঠ বালু দিয়ে ভরাট করতে পাশের খাল থেকে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলনের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে অনুমতি চেয়েছেন। অনুমতি পেলে কাজ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। এলাকায় তার ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে প্রতিপক্ষের লোকজন তার বিরুদ্ধে এসব  কুৎসা রটাচ্ছে। কিন্তু  তিনি  কোনো কাজ না করে চূড়ান্ত বিল গ্রহণের  ব্যপারে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিরান হোসেন অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে আমরা ওই ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে বিভিন্ন দিক থেকে চাপ দিচ্ছি। তবে  কাজ বুঝে না নিয়ে কিভাবে  তিনি চূড়ন্ত বিল দিলেন সে বিষয়ের কোনো উত্তর মেলেনি তার কাছ থেকে।

কমিউনিটি ক্লিনিকে আট শতাধিক সিএইচসিপি নিয়োগ


দেশের বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে আট শতাধিক কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) শূন্য পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। চূড়ান্তভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ২৫ জুনের মধ্যে নিজ জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কাজে যোগদান করার নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘রিভাইটালাইজেশন অব কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ইনিশিয়েটিভস ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের পরিচালক ড. মাখদুমা নার্গিস শুক্রবার বিকেলে জাগো নিউজকে জানান, ইতিমধ্যেই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের নিয়োগপত্র ডাকযোগে তাদের স্থায়ী ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, শূন্যপদের মোট সংখ্যা সাড়ে আটশর মতো হলেও সংরক্ষিত মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূরণ না হওয়ায় আনুমানিক শতাধিক পদে নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। প্রকল্প না হয়ে রাজস্ব খাতে হলে শূন্য কোটা পূরণ হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কমিউনিটি প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ এপ্রিল সিএইচসিপি পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সাড়ে আটশ’ পদের বিপরীতে প্রায় ২০ হাজার প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। মোট শূন্যপদের সংখ্যার বিপরীতে মৌখিক পরীক্ষার জন্য পাঁচগুণ প্রার্থী নির্বাচিত করা হয়। পরবর্তীতে ১৬ মে থেকে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ শেষে ১৮ জুন চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতি ছয় হাজার জনসংখ্যার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে বর্তমানে দেশে মোট সাড়ে ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও একজন করে সিএইচসিপি রয়েছে।

ক্লিনিকগুলোতে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, শিশুকালীন সমন্বিত অসুস্থতাজনিত চিকিৎসা, প্রজনন স্বাস্থ্য, টিকাদান, টিবি, ম্যালেরিয়া, নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষাদান, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মূল দায়িত্ব পালন করেন সিএইচসিপি।

প্রকল্প কার্যালয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ১০ কোটি মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে। তন্মধ্যে ২১ লাখেরও বেশি রোগীকে পরবর্তী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

এমপি পুত্র রনি কাশিমপুর কারাগারে

সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে বখতয়িার আলম রনিকে ঢাকা থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে এ কারাগারে আনা হয়।  কারাগারের জেলার জান্নাতুল ফরহাদ জানান, বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব তাকে হাইসিকিউরিটিট কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
গত ১৩ এপ্রিল রাতে নিউ ইস্কাটনে তার নিজ গাড়ি থেকে ছোড়া গুলিতে এক অটোরিকশা চালক এবং এক রিকশাচালক মারা যান।  যানজটের মধ্যে আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে রনি ওই গাড়ি থেকে গুলি চালান বলে অভিযোগ ওঠে।  গণমাধ্যমের খবর, মাতাল অবস্থায় থাকা রনি যানজটে র্দীঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালান।  এদিকে পিস্তলের গুলিতেই যে ঢাকার নিউ ইস্কাটনে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে তা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

সীমান্ত রক্ষায় দেশীয় রোবট

robot স্বল্প খরচে এবং সহজ নিয়ন্ত্রণযোগ্য একটি রোবট তৈরি করেছে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের দুই শিক্ষার্থী। এরা হলেন কাউসার আহমেদ ও শরিফ হোসেন রাসেল। এই রোবটটি সীমান্ত রক্ষায় এবং ধ্বংসস্তুপে উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা যাবে। রোবটির ‍উদ্ভাবকরা জানান, রোবটি পরিচালনার জন্য তারা একটি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট করেছেন। এটি স্মার্টফোনের মাধ্যমেই পরিচালনা করা যাবে। রোবটি স্মার্টফোনের ব্যাটারি থেকেই প্রয়োজনীয় শক্তি সংগ্রহ করে। শিক্ষার্থীরা জানান, রোবটির উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু সেন্সর এবং ক্যামেরা প্রয়োজন। এসব যন্ত্রপাতি কেনার মত প্রয়োজনীয় অর্থ তাদের নেই। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং অর্থ পেলে তারা এটিকে আরও যুগপোযোগী করা হবে।
mobile-apps
এদিকে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেদোয়ান রিজন একটি রাউটার তৈরি করেছেন। যেটি একই সঙ্গে ১০০টি কম্পিউটারকে ইন্টারনেট সংযোগ দিতে সক্ষম। এটি বানাতে খরচ হয়েছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। ১২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমরাজ হোসেন তৈরি করছেন একটি মোবাইল অ্যাপস। ৩৩০ কিলোবাইট সাইজের এই অ্যাপসটি দিয়ে মোবাইল ফোনের যাবতীয় সংকেত ভয়েস আউটপুটের মাধ্যমে জানা যাবে। এই অ্যাপসটি মূলত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য।
batch
সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত ও গাণিতিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন ড. হাসিন অনুপমা আজহারী বাংলামেইলকে বলেন, ‘ এই প্রথমবারের মত সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা প্রদর্শন করলো। শিক্ষার্থীদেরকে এধরনের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ভিত্তিক কাজে উৎসাহিত করতে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। প্রয়োজনে তাদেরকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।

রক্ত দিয়ে হলেও মিল রক্ষার ঘোষণা

Khulna-movement-pic-BM01খুলনা: খুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত আলীম জুট মিলের প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর ভাগ্য এখন অনিশ্চয়তার মুখে। মিলটি ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়ার কারণে চাকরি হারানোর ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে তারা। মিলটি রক্ষায় প্রতিরোধ কমিটির মাধ্যমে গত দুবছর ধরে শ্রমিকরা লাগাতার কর্মসূচি পালন করে আসছে। শ্রমিক আন্দোলনে খুলনার আটরা শিল্প এলাকা এখন উত্তাল। শ্রমিকরা ঘোষণা দিয়েছে, রক্ত দিয়ে হলেও মিলটি তারা রক্ষা করবে। ব্যক্তিমালিকানায় যেতে দেবে না। ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবেই বৃহস্পতিবার সকালে আলীম জুট মিলের শ্রমিক পরিবারের (স্ত্রী ছেলে মেয়ে) সদস্যরা আফিল গেট শিল্প এলাকায় ঝাড়ু মিছিল বের করে। মিছিলটি আলীম জুট মিল থেকে শুরু করে ইস্টার্ন ও আফিল গেট ঘুরে আবার আলীম জুট মিলের প্রধান গেটের সামনে এসে শেষ হয়।
একইদাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী শনিবার সকাল ১০ টায় লাঠি মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিকরা। পরে বিকেলে রাষ্ট্রায়ত্ব জুট মিলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারীরা। শ্রমিক আন্দোলন বিষয়ে আলীম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি আব্দুস সালাম জোমাদ্দার বলেন, ‘মিলটি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেয়ার প্রতিবাদে শ্রমিকরা প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে আসছে।’ শ্রমিক নেতা আরো বলেন, ‘মিলটি রক্ষায় শ্রমিকদের পাশে থেকে রাষ্ট্রায়ত্ব ২৬টি জুট মিলের সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্যপরিষদের নেতারাও কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি দিয়ে আসছে। আলীম জুট মিলের শ্রমিকরা সর্বশেষ পরিবারের স্ত্রী সন্তান নিয়ে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। যার ধারাবাহিকতায় তারা ঝাড়ু মিছিল করেছে।’
Khulna-movement-BMআব্দুস সালাম জোমাদ্দার আরো বলেন, ‘বর্তমানে মিলটিতে স্থায়ী ও বদলিসহ প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এর সঙ্গে এলাকার ক্ষুদে ব্যবসায়ী ও দোকানদারসহ নানা পেশার হাজার হাজার মানুষ জড়িত। যদি মিলটি ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তাহলে শ্রমিক-কর্মচারীসহ নানা পেশার মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়বে। অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাতে হবে শ্রমিকদের। বন্ধ হয়ে যাবে তাদের সন্তানদের লেখাপড়া।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে এই সিবিএ নেতা বলেন, ‘শ্রমিক-কর্মচারীরা রক্ত দিয়ে হলেও এ মিলকে ব্যক্তি মালিকানায় দিতে দেবে না।’ আলীম জুট মিল ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক মো. আব্দুর রশিদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ‘আর কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকে ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তর হবে না’ উপেক্ষা করে খুলনার আলীম জুট মিল ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেয়ার চক্রান্ত চলছে। সার্বিক বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পাটকল শ্রমিকরা।’ একটি প্রভাবশালী মহলের ষড়যন্ত্রে সরকারি আলীম জুট মিল ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করে মিলটি মালিকের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান আব্দুর রশিদ। উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালের ১ জুলাই খুলনার আটরা শিল্প এলাকায় ব্যক্তি মালিকায় প্রতিষ্ঠিত হয় মেসার্স আলীম জুট মিলস লিমিটেড। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির আদেশ বলে (পি ও ২৭) মিলটি রাষ্ট্রায়ত্ত করা হয় এবং বিজেএমসির নিয়ন্ত্রাণাধীন মিল হিসেবে এখনও পর্যন্ত পরিচালিত হয়ে আসছে।

শিশুপুত্রকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা

Suicide
টাঙ্গাইল: ঘাটাইল উপজেলায় শিশুপুত্রকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন এক বাবা। পুলিশ বাবা ছেলের মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের মধ্যকাত্রা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের কাত্রা গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে রনজু মিয়া (২৫) ও তার শিশুপুত্র শাহিন (২)। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, দুপুর ১২টার দিকে রনজু মিয়া তার স্ত্রী শামীমা ও ছেলে শাহিনকে নিয়ে বাড়ির পাশের আনিছুর রহমানের রাইচ মিলে ধান ভাঙাতে যায়। ধান ভাঙাতে দেরি হওয়ায় রনজু তার ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসে। এসে ছেলেকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে বালিশ ও পিঁড়ি দিয়ে ঢেকে রাখে। এরপর নিজে ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। দুপুর দুটার দিকে রনজুর স্ত্রী শামীমা ধান ভাঙিয়ে বাড়ি ফিরে ছেলে শাহীনের লাশ বালিশচাপা অবস্থায় ও স্বামীর লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দেয়া অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা সেখানে জড়ো হয়। এরপর থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে তাদের লাশ উদ্ধার করে। রনজুর মা রানী বেগম জানান, ৫/৬ মাস ধরে রনজু মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। মা -চাচাসহ পরিবারের লোকজনের ধারণা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এ রকম ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলামেইলকে বলেন, বাবা ছেলের লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত করে দেখা হবে।

বুড়িগঙ্গার অসমাপ্ত কাজ শেষ করার তাগিদ

 রাজধানী ঢাকা রক্ষায় বুড়িগঙ্গা নদীর চলমান প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির ১১তম বৈঠকে এ তাগিদ দেয়া হয়।
কমিটির সভাপতি রমেশ চন্দ্র সেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, এ কে এম ফজলুল হক, মো. ফরিদুল হক খান, রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, অনুপম শাহজাহান জয় এবং মোছা. সেলিনা জাহান লিটা অংশ নেন। এছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মন্ত্রণালয় এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পের হালনাগাদ প্রতিবেদন, খুলনা জেলার ভূতিয়ার বিল এবং বর্ণাল সলিমপুর কোলাবাসুখালী বন্যানিয়ন্ত্রণ ও নিঙ্কাশন প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদন, তারাইল পাচুরিয়া সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদন এবং নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের (নগই) চলমান কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন ও বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিটি পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প শেষ হলে এই প্রকল্পের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অন্য প্রকল্পে কর্মসংস্থান করার সুপারিশ করে।
বৈঠকে খুলনা জেলার ভূতিয়ার বিল এবং বর্ণাল সলিমপুর কোলাবাসুখালী বন্যানিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার সুপারিশ করা হয়। কমিটি ঢাকা মহানগরীকে রক্ষার জন্য বুড়িগঙ্গা নদী নিয়ে চলমান প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করে দাতা সংস্থার সহায়তায় নতুন প্রকল্প শুরু করার সুপারিশ করে। বৈঠকে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রমকে এর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।

সরকারি ভাতার সংখ্যা কমাতে চান মুহিত


সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতার সংখ্যা কমানো উচিৎ বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ইচ্ছে ছিল সরকারি, আধা-সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা। এত্ত ভাতা আছে আমাদের! এগুলো রাইটের মতো হয়ে গেছে, হাত দেয়া যায় না। আমি বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ও আপ্যায়ন ছাড়া অন্য সব ভাতা উঠিয়ে দিতে চেয়েছিলাম।’বেতন ও চাকরি কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে গত ১৩ মে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন ধরে বেতন কাঠামো সুপারিশ করে সচিব কমিটি। এখন অর্থমন্ত্রণালয় সচিব কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি চূড়ান্তে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করবে।সপ্তম পে-কশিনের প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পর্যালোচনার পর একটি মন্ত্রিসভা কমিটি হয়েছিল । এবার এধরনের কমিটি হবে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি অর্থমন্ত্রী। মুহিত জানান, আগামী মাসের মধ্যে পে-কমিশনের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হবে। যখনই এটা চূড়ান্ত হোক না কেন জুলাই থেকেই কার্যকর হবে।স্থায়ী পে-কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মুহিত বলেন, পাঁচ বছর পর পর পে-স্কেল ঘোষণার বিষয়টি এবারই শেষ। একটা স্থায়ী পে-কমিশন গঠনের চিন্তা-ভাবনা চলছে। এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সমন্বয় হবে।এদিকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন অর্থমন্ত্রীর কাছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল ঘোষণার দাবি জানান।তারা অর্থমন্ত্রীর কাছে বৈষম্য দূরীকরণসহ চার দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দেন। এ বিষয়ে শিক্ষক নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা হতাশ। দাবি বাস্তবায়িত না হলে আন্দোলন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন তারা।এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের দাবিগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামালসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সেপ্টেম্বর থেকে পরিচয়পত্র নিলে গুণতে হবে ফি

জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়ন এবং হারানো বা নষ্ট হওয়ার কারণে জাতীয় পরিচয়পত্র নিতে প্রতি নাগরিককে অন্তত দুইশ টাকা করে দিতে হবে। এ নিয়ম চালু হচ্ছে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে। আর এ ফি কার্যকর করতে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করতে যাচ্ছে ইসি।
বৃহস্পতিবারই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে ইসি সূত্রে জানা যায়।
ইসি সূত্রে জানায, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ফি নির্ধারণ করে এসআরও জারি করে ইসি। এবার ফি কার্যকর করতে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত বিধামালার ৯ বিধি অনুসারে ইসি এ প্রজ্ঞাপন জারি করতে যাচ্ছে। যেখানে বলা হয়েছে- সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফি দেয়া বাধ্যতামূলক করে যে তারিখ নির্ধারণ করবে তখন থেকে তা কার্যকর করা হবে।
এদিকে নতুন বিধিমালা অনুসারে, জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়ন এবং হারানো বা নষ্ট হওয়ার কারণে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র নেয়ার জন্য আলাদা আলাদা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিচয়পত্র নবায়ন করতে সাধারণ ১০০ টাকা ও জরুরি ১৫০ টাকা দিত হবে। হারিয়ে ফেললে বা নষ্ট হলে নতুন পরিচয়পত্র নিতে প্রথমবার আবেদনে ২০০ টাকা, জরুরি ভিত্তিতে ৩০০ টাকা। দ্বিতীয়বার আবেদনে ৩০০ টাকা, জরুরি ভিত্তিতে ৫০০ এবং পরবর্তী যে কোনোবার ৫০০ টাকা ও জরুরি প্রয়োজনে ১ হাজার টাকা করে দিতে হবে। যা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব সিরাজুল ইসলাম বাংলামেইলকে বলেন, ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন বিধিমালায় সংশোধন এনে পরিচয়পত্র নবায়ন ও হারানো বা নষ্ট হলে নতুন পরিচয়পত্র নিতে ফি নির্ধারণ রয়েছে। তা কার্যকরে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’ তবে ৩১ জুলাই পর্যন্ত হারানো বা নষ্ট পরিচয়পত্রের ক্ষেত্রে ডুপ্লিকেট আইডি সংগ্রহে কোনো অর্থ দিতে হবে না বলে জানান তিনি।
বর্তমানে ৯ কোটি ৬২ লাখেরও বেশি ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। তাদেরকে বিনামূল্যে লেমিনেটে পরিচয়পত্র দেয়া হয়। এর মেয়াদ রয়েছে ১৫ বছর। এ সময়ের পরই নবায়ন করা যাবে এ পরিচয়পত্র।
তবে হারানো বা নষ্ট হয়ে গেলে ডুপ্লিকেট পরিচয়পত্র সংগ্রহে ইসির পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে আবেদন করতে হয়। এ আবেদনের মাধ্যমে এতোদিন বিনামূল্যে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতো নাগরিকরা। এখন থেকে নির্ধারিত ফি ইসি সচিব বরাবর পে অর্ডার বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জমা দিয়ে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।
এদিকে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এককালীন চুক্তির ফিও নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এককালীন ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। এছাড়া প্রতিটি তথ্য প্রতিবার যাচাইয়ের জন্য দিতে হবে দুই টাকা করে। সরকারি সংস্থা ও বিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষকে তথ্য-উপাত্ত সরবরাহের ক্ষেত্রে এককালীন ৫ লাখ টাকা সার্ভিস চার্জ রাখা হয়েছে। বার্ষিক এক লাখ টাকা এবং প্রতিটি উপাত্ত সরবরাহে এক টাকা করে দিতে হবে।

নাইকো দুর্নীতি মামলা : খালেদার আবেদন খারিজ

নাইকো দুর্নীতি মামলা বাতিল চেয়ে করা খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে  আগামী দুই মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতে তাকে আত্মসমর্পণেরও নির্দেশ দেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি নুরুজ্জামান ননি ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন। সেই সাথে জামিনের অপব্যবহার করতে পারবেন না এই শর্তে রায় পাওয়ার আগ পর্যন্ত এই দুই মাসের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন বেগম জিয়ার সাঙ্গে কথা বলে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে, দুদকের আইনজীবী জানিয়েছেন, দুর্নীতির প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়ায় আদালত এই রায় দেন।

প্রসঙ্গত, কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের করা নাইকো মামলাটি হাইকোর্টের নির্দেশে ৭ বছর ধরে স্থগিত রয়েছে। মামলাটিতে বর্তমানে স্থায়ী জামিনে আছেন বেগম জিয়া।

স্বাগতম হে মাহে রমজান

রহমত বরকত মাগফেরাতের এই মাহে রমজান। আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার এই মাহে রমজান। যার ঘোষণা হাদীসে কুদসিতে এসেছে-

উচ্চারণ :
কুল্লু আমালিন ইবনু আদামি লাহু ইল্লাস সিয়ামু ফাইন্নাহু লি ওয়া আনা আযযি বিহী (সহিহ মুসলিম)

অর্থ : মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য হয়ে থাকে, কিন্তু রোজা শুধু আমার জন্য আমি তার প্রতিদান দিব। (সহিহ মুসলিম)।

কেউ কেউ এ অর্থও করেন থাকেন-
রোজা আমার জন্য রাখা হয়; আমি নিজেই এর প্রতিদান। সুতরাং এত বড় নেয়ামতের মাস রমজান; যার করণীয় সম্পর্কে আমাদের প্রস্তুতি নেয়া দরকার।

তাই এই কুরআন নাযিলের মাসে বিশ্ব মুসলিম রমজানের প্রস্তুতিতে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে ব্যক্তি, সমাজ, পাড়ায়, মহল্লায় সেমিনার সিম্পোজিয়াম, সভা-সমাবেশ করে থাকে সবাইকে এ বার্তা পৌছে দেয়ার জন্য যে, মাহে রমজান সমাগত।

ওহে বিশ্ব মুসলিম এ মাসে-
দুনিয়ার সকল প্রকার খারাবি থেকে নিজেকে তথা সমাজকে মুক্ত রাখো; আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো; রহমত বরকত মাগফেরাত অর্জনের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন কর।

প্রস্তুতিগুলো কেমন হওয়া চাই :
রমজান মাস পাওয়ার জন্য আমরা রজব মাস থেকেই আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে আসছি-
বর্ণিত আছে, যখন রজব মাস শুরু হত, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দু’আ করতেন-

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা বা-রাকলানা-ফি- রাজাবা ওয়া শা’বান ওয়া বাল্লিগনা- রামাদা-ন।
অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জন্য রজব ও শা’বান মাসে বরকত দাও এবং আমাদেরকে রমযান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দাও। অথ্যাৎ আমাদের নেক হায়াত দান কর, যাতে আমরা রমযান মাস পেয়ে রমযানের বরকত লাভ করতে পারি। সুতরাং আমাদের রমজানের প্রস্তুতি নেয়া একান্ত প্রয়োজন। মুমিন মুসলমানরা এখন সেই প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। কেউবা প্রস্তুতি নিয়েছেন।

যারা খতমে কুরআনের মাধ্যমে তারাবীহ আদায় করবেন তারাও অনেক আগে থেকেই প্রস্তুত।
যারা ইজতেমায়ী ভাবে ইফতারের আয়োজন করবেন তারাও প্রস্তুত। প্রস্তুত সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তথা উপাসনালয়। ধর্ম প্রাণ মুসলমানদের মধ্যে যারা এখনও প্রস্তুতি নেয়নি তারাও প্রস্তুতির পথে। যাতে সবাই ইবাদতে-ইবাদতে কাটিয়ে দিতে পারে পুরো রমজান মাস।

হাদীস শরীফে এসেছে-
উম্মাহাতুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, যখন রমজান সমাগত তখন হযরত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র রমজানুল মোবারকে ইবাদত-বন্দেগীর জন্য কোমর বেঁধে লেগে যেতেন।

তাইতো সমাজের সর্বস্তরে রমজানকে বরণ করতে তথা রমজানের ব্যাপারে সচেতনা তৈরি করতে এবং রমজানের যথাযথ প্রস্তুতি নিতে বিশ্ব মুসলিমের নিকট রমজানের আগমনী বার্তা পৌছিয়ে দেয়া ঈমানের একান্ত অপরিহার্য দাবি। জাগো নিউজের পক্ষ থেকে আহলান সাহলান মাহে রমজান মুরাবক হো মাহে রমজান সুস্বাগতম হে মাহে রমজান

দৃষ্টি আকর্ষণ :
আমরা আজ থেকে পর্যায় ক্রমে রমজানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রমজান সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়াদি জাগো নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের মাধ্যমে বিশ্ব মুসলিমে খেদমতে তুলে ধরব ইনশা আল্লাহ।

রমজানকে স্বাগত জানিয়ে বরিশালে পুলিশের র‍্যালি

পবিত্র মাহে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে বরিশাল ইমাম সমিতি এবং মহানগর পুলিশ প্রশাসন নগরীতে যৌথভাবে র‍্যালি বের করেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সদর রোড অশ্বিনী কুমার হলের সামনে থেকে র‍্যালিটি বের হয়। র‍্যালিটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

র‍্যালির উদ্বোধন করেন মহানগর পুলিশের কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী। এসময় তিনি বলেন, রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় দিনের বেলা প্রকাশ্য পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতার বিক্রি করা যাবে না। সকাল প্রকার অশ্লীলতা বন্ধ রাখা ও রোজাদারদের সম্মান করার আহ্বান জানান তিনি।

র‍্যালিতে অংশ নেন মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. সোয়েব আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) গোলাম রউফ খান পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. জিল্লুর রহমান, নগর ইমাম সমিতির সাধারণ সম্পদক বশিরুল্লাহ আতাহারীসহ অন্যরা।

জামালপুরে জমি নিয়ে বিরোধে বসতঘরে হামলা

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার বিকালে উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের আদ্রা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের হাটবাড়ি গ্রামের হাকিম মণ্ডল সঙ্গে মূলবাড়ী গ্রামের নতু তালুকদারের ছেলে জাহাঙ্গীর তালুকদারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে বিকালে জাহাঙ্গীর তালুকদার পুলিশের সহায়তায় ২০/২৫ জনের একটি ভাড়াটে দল নিয়ে ছলিম মন্ডলের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।

হামলাকারীরা লাঠিসোঠা, রামদা, শাবল ও হাতুরি দিয়ে একটি বসতঘর গুড়িয়ে দেয় এবং একটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে আমজাদ হোসেন (৪৫), সুরুজ মিয়া (৩৫), জলিল তালুকদারসহ (৩২) অন্তত পাঁচজন আহত হন।

আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনা চলাকালে হামলাকারীদের তাণ্ডবে আদ্রা বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ভয়ে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

পুলিশের একার পক্ষে নিরাপত্তা দেওয়া কঠিন : ডিএমপি কমিশনার

শুধু পুলিশের একার পক্ষে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনগণের মাঝেও নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি করতে হবে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় ডিএমপির সদর দফতরে টহল গাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া একথা বলেন।

তিনি বলেন, রমজানে ও ঈদে মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে এবং তাদের জান ও মালের নিরাপত্তা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সব ধরণের ব্যবস্থাই গ্রহণ করেছে পুলিশ।

রমজানে রাজধানীর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি না করতে ওয়াসা এবং দুই সিটি মেয়রকে অনুরোধ জানিয়ে কমিশনার বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর দুই সিটি মেয়রের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। রমজানে রাজধানীর সকল রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ আপাতত বন্ধ রাখতে ডিএমপির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।

রাজধানীর যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমস্যার ‍দ্রুত নিরসনে ট্রাফিক বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, মগবাজার যানজটের জন্য দায়ী। রাজধানীবাসীর জন্য বিষফোঁড়া। মগবাজারের কারণেই পুরো নগরীতে যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এই এলাকার যানজট নিরসনে ডিএমপির পক্ষ থেকে বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। মগবাজারের ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তা দ্রুত মেরামত, রাস্তা জুড়ে পড়ে থাকা নির্মাণ-সামগ্রী স্থানান্তরের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান তিনি।

রাজধানীর যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে মূল সড়ক জুড়ে যাতে কোনো ইফতারির দোকানপাট না বসে সেজন্য সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ইস্টার্ন হাউজিং লি.-এর সিনিয়র নির্বাহী পরিচালক নাজেম নিয়াজ কমিশনারের হাতে টহল গাড়ির চাবি তুলে দেন। ডিএমপি ও ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বকশীগঞ্জে ফুটবল টুর্নামেন্টে বিলেরপাড় একাদশ চ্যাম্পিয়ন।

বকশীগঞ্জ


জামালপুরের বকশীগঞ্জে সাধুরপাড়া ইউনিয়নের ঠান্ডারবন গ্রামে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঠান্ডারবন যুব সংগঠন কর্তৃক আয়োজিত বুধবার বিকালে ঠান্ডারবন সরকারি বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টে বিলের পাড় একাদশ বনাম ধাতুয়া কান্দা একাদশের মধ্যে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় বিলের পাড় একাদশ চ্যাম্পিয়ন হয়। খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল আলম বাবু। এতে সভাপতিত্ব করেন  স'ানীয় সমাজসেবক সোরহাব হোসেন। পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে এসময় প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম, শিক্ষক তাইরুল হাসান, রাশেদুজ্জামান সোনা , ডাঃ খবির উদ্দিন, ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির, সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ উপসি'ত ছিলেন।
এতে কয়েক হাজার দর্শক খেলাটি উপভোগ করেন।    

সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বাড়ছে না

সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বাড়ানোর আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক।
বুধবার জাতীয় সংসদে ফিরোজা বেগম চিনুর টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই।’
মো. আয়েন উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি চাকরিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রথা বাতিল করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। বিশেষায়িত পদে এবং যেসব সংস্থার কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবল সঙ্কট রয়েছে, সেসব সংস্থায় উপযুক্ত যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গকে সরকার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে থাকে। এছাড়া প্রশাসনিক ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে যেসব দপ্তর/সংস্থা দ্রুত জনবল নিয়োগ করা সম্ভব হয় না সেসব দপ্তর/সংস্থায়ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদেরকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে জনবল সঙ্কট নিরসনসহ সরকারি কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়। যে কারনে জনস্বার্থে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা এখনো আছে।
মাহজাবিন খালেদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সচিব পদে ১০৪ জন, অতিরিক্ত সচিব পদে ৬০৮ জন, যুগ্ম সচিব পদে ১৪০৭ জন, উপসচিব পদে ১৪১৪ জনসহ মোট তিন হাজার ৫৩৩ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। জনপ্রশাসনে গতিশীলতা আনতে পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে পাবলিক সার্ভিস এ্যাক্ট প্রণয়ন করার হচ্ছে।

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত দুর্ভোগ বেড়েছে ৩০ হাজার বানভাসীর


গত ৫ দিন ধরে জেলার ৬ উপজেলার ২৪ ইউনিয়নের নদ-নদী তীরবর্তী দেড়শতাধিক গ্রাম, চর ও দ্বীপচর গুলো তলিয়ে আছে। এসব এলাকার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানি বন্দী জীবন-যাপন করছে। বন্যার্তদের মাঝে দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। পাশাপাশি গৃহপালিত পশুপাখির খাদ্য সংকট নিয়েও চরম বিপাকে পড়েছে বানভাসীরা। গ্রামীণ কাঁচা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। এ অবস্থায় নৌকা ও কলাগাছের ভেলাই একমাত্র ভরসা।

চিলমারী উপজেলার অষ্টমীর চরের আনছার আলী জানান, পানির জন্যে কোন দিকে বেড়াইতে পারি না। নৌকা নাই, হাটবাজার যাবার পাই না। খাওয়া-দাওয়ার খুব সমস্যায় আছি। গত ৫ দিন ধরে কাজ নাই। ঘরত খাবার নাই। গরু-ছাগল নিয়া খুব সমস্যায় আছি। কি হবে আল্লাই জানে।

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত দুর্ভোগ বেড়েছে ৩০ হাজার বানভাসীর thumbnail
তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি ও অন্যান্য নদ-নদীর পানি সামান্য হ্রাস পেলেও কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে দুধকুমর নদীর প্রবল শ্রোতে ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট ব্রীজের পাইকের ছড়া এলাকায় সংযোগ সড়কের ধ্বস দেখা দেয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চরযাত্রাপুর গ্রামের আমেনা বেগম জানান, ৫ দিন ধরে ছেলে মেয়ে নিয়ে পানির মধ্যে আছি। নলকুপে পানি উঠছে। বাইরে থেকে পানি আনি খাওয়া লাগে। নৌকা নাই, খাবার নাই। খুব কষ্টে আছি।
এদিকে বন্যা কবলিত মানুষের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ৫০ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দেয়া হলেও তা এখনও বানভাসীদের মাঝে বিতরন শুরু হয়নি।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক এবিএম আজাদ জানান, জেলায় বন্যা কবলিতদের জন্য ৫০ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা দ্রত বিতরন করা হবে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৫ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

রাজারহাটের ঘড়িয়াল ডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে ক্লাশ করছে ছাত্র-ছাত্রীরা

রাজারহাটের ঘড়িয়াল ডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে ক্লাশ করছে ছাত্র-ছাত্রীরা thumbnail
কুড়িগ্রামে রাজারহাটের ঘড়িয়াল ডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরেও ভবনের বারান্দা ও মাঠে চলছে পাঠদানের কার্যক্রম। বিদ্যালয়টিতে হয়নি কোন সংস্কার কিংবা নতুন ভবনের ব্যবস্থা। এতে আতংকিত হয়ে পড়েছে অভিভাবক মহল। বিদ্যালয়ের বেহালদশার কারণে কমতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার শত বছরের পুরাতন ঘড়িয়াল ডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এটি নির্মিত হয় ১৯১৪ সালে । ১৯৬৮ সালে বিদ্যালয়টিতে ৫ রুম বিশিষ্ট একতলা ভবন নিমার্ণ করা হয়। সর্বশেষ ২০০৯ সালে এই বিদ্যালয়ের ছাদ সংস্কারে ৭০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও নির্মিত হয়নি কোন নতুন ভবন। ফলে শিক্ষকরাও বিদ্যালয়ের বারান্দা এবং মাঠে ক্লাশ করে চালিয়ে যাচ্ছেন পাঠদানের কার্যক্রম।
উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কয়েকবার পরিদর্শন করে ২০১৩ সালে সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ক্লাস নেয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিলেও উপায় না থাকায় এভাবেই চলছে স্কুলটি। পরিত্যক্ত রয়েছে ২টি ক্লাস রুমও। এতে করে স্কুলটির মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে অসন্তুষ্ঠি প্রকাশ করেছেন অভিভাবক মহল।
ভবনটিতে ফাটল ও পলেস্তারা খুলে খুলে পড়ছে। নানা সংকটে জরাজীর্ণ স্কুলটিতে বর্তমানে ২শ ৩৯ জন ছাত্র-ছাত্রী পড়াশুনা করছে। বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় কিছু ছাত্র-ছাত্রীদের  একটি রুমে গাদাগাদী করে ক্লাশ করতে হয়। আর কিছু ছাত্র-ছাত্রীকে বারান্দা অথবা খোলা মাঠে  পাঠদান করান শিক্ষকরা। দূর্ঘটনা এড়াতে অনেক অভিভাবক সরিয়ে নিচ্ছেন তাদের সন্তানদের।
শিক্ষার্থীরা বলছে দীর্ঘদিন থেকে বাইরে ক্লাস করায় তারা নানানমুখি সমস্যায় পড়ছে। ঝড়-বৃষ্টি হলেই আতংকে ছুটে চলে যায় বাড়ি। আর এতে করে তারা চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে পড়াশুনায়।
বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাত্র সোহেল জানান, আমাদের ক্লাস রুম নাই। আমরা কষ্ট করে পড়া-লেখা করছি। আমরা আমাদের ক্লাস রুম চাই।
বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর অবিভাবক নজরুল ইসলাম জানান, এভাবে কোন বিদ্যালয় চলতে পারে না। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ না করলে আমি আর আমার মেয়েকে ঐ স্কুলে পাঠাবো না।
ঘড়িয়াল ডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক, ফাতেমা খাতুন জানান, রোদ, বৃষ্টি উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বারান্দার নীচে বা মাঠে বসে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশুনা করছে। এতে তারা যেমন কষ্ট পাচ্ছে, তেমন বিড়ম্বনায় আছে শিক্ষকরাও।
রাজারহাট উপজেলা শিক্ষা অফিসার আকতারী পারভীন জানান, ঘড়িয়াল ডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যারয় ভবনটি ঝুকিপূর্ণ হওয়া সেটি পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মার্ণের জন্য একাধিকবার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মার্ণের কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। দ্রুত সরকার শত বছরের পুরাতন এই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার মান ঠিক রাখতে নতুন ভবন নির্মাণের অনুরোধ করেন।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার জানান, উপজেলা শিক্ষা কমিটি ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে বার বার নতুন ভবন নির্মাণের চিঠি পাঠনো হচ্ছে। কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণের বরাদ্দ না আসায় ভবন নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না।