আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মোদির সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের সাক্ষাৎ


সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। রোববার দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদের নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎ শেষে মাতলুব সাংবাদিকদের বলেন, আমরা দুই দেশের বেসরকারি খাতে যৌথ একটি গ্রুপ গঠনের বিষয়টি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছি। বিজিএমইএ ভারতের ৫০ একর জমি চেয়েছেন। এর মাধ্যমে উন্নতমানের পোশাক আমরা রফতানি করতে পাবো। বিজিএমইয়ের এ প্রস্তাবে মোদি নিজেই আমাদের বলেছেন, আমরা আপনাদের স্বাগত জানাবো।

তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে যেসব চুক্তি করেছেন, তা দুই দেশের ব্যবসায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। এর ফলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা ঘাটতি কমে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। বিভিন্ন চুক্তির সম্পাদনের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের বিভিন্ন চেম্বারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়।

সাক্ষাৎকালে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলে ছিলেন এফবিসিসিআইর প্রথম সহ-সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, এমসিসিআইর সভাপতি নাসিম মঞ্জুর, ডিসিসিআইর সভাপতি হোসেন খালেদ, বিজেএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ-ভারত চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম চেম্বারের মাহবুবুল আলম, রাজশাহী চেম্বারের মনিরুজ্জামান, খুলনা চেম্বারের কাজী আমিনুল হক, সিলেট চেম্বারের সালাহউদ্দিন আলী আহমেদ, বরিশাল চেম্বারের সাইদুর রহমান রিন্টু, রংপুর চেম্বারের মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী প্রমুখ।

থাইল্যান্ডে মার্স ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সন্ধান


07
থাইল্যান্ডে প্রাণঘাতী মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রম (মার্স) ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। চলতি বছর মার্স ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া দেশগুলির মধ্যে থাইল্যান্ড চতুর্থ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজাতা রাজাতানাভিন ব্যাংককে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘রাজধানীতে ৭৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তার শরীরে মার্স সংক্রমিত হয়েছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। দুটি ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে তার দেহে মার্স ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্ত ওই ব্যক্তি ব্যাংককে হৃদরোগের চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন।
রাজাতার এ খবরের পাশাপাশি থাই জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সন্দেহভাজন ৫৬ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন ওই ব্যক্তির সঙ্গে ব্যাংককে এসেছিলেন। প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে সৌদি আরবে প্রথম ব্যাপকহারে মার্স ভাইরাসে আক্রান্তের ঘটনা ঘটে। ওই বছর দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৪৫৪ জনের মৃত্যু হয়। চলতি বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত ১৬৫জন আক্রান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সিপ্রাস-জাঁ ক্লদের দ্বৈরথ: অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে গ্রিস

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জাঁ-ক্লদ জুঁকার গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী আলেক্সিস সিপ্রাসের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সিপ্রাস তার দেশের মানুষের কাছে মিথ্যে বলছেন। সিপ্রাস সর্বশেষ গ্রিক নির্বাচনে সমাজতন্ত্রের বিজয়নায়ক। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দেশের অর্থনৈতিক কৃচ্ছতা পরিত্যাগ করে দেশকে ঋণমুক্ত করবেন। বর্তমান পরিস্থিতির সাপেক্ষে গ্রিক নাগরিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ঋণদাতারা গ্রিসকে সর্বতভাবে পরাস্ত করতে চাইছে।
জাঁ-ক্লদ সিপ্রাসের ব্যাপারে তীব্র হতাশা ব্যক্ত করেছেন। এমনিতেই উপর্যুপরি মতানৈক্য এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা পেছাতে থাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না গ্রিসের এমনকি ইইউ থেকে ছিটকে পড়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে এক হিসেবে। এমন সময়ে গ্রিক নাগরিকদের সম্মুখে সিপ্রাস এমন উক্তি করায় ক্লদদের হতাশা এখন বেড়েছে।
সিপ্রাস আরও বলেছেন, ঋণদাতারা ভবিষ্যত বাজারে বিদ্যুতের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করার ভাবছেন যা গ্রিসের জন্যে প্রযোজ্য হবে। একইসঙ্গে শুল্ক আরোপ করবেন তারা জীবনরক্ষাকারী ঔষধের ওপরও। বিষয়গুলো নিন্দা যুগিয়েছে গ্রিসে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জাঁ-ক্লদ এক্ষেত্রেও হতাশ। জানালেন, সিপ্রাস জানেন খোদ ক্লদ নিজেই এমন শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে। এবং বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ অবস্থায় এমন মন্তব্য করা একজন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে সমীচিন নয় বলে মনে করেন ক্লদ।
Jean-Claude-President-of-Euro-comission
আগামী ১৮ জুন গ্রিসের সঙ্গে ইউরোপীয় প্রতিনিধি এবং আন্তরর্জাতিক মুদ্রা তহবিল প্রতিনিধিদের এক বৈঠক বসবে। তবে ঐ বৈঠকে নতুন কোনো প্রস্তাবনা গ্রিস দেবে না তা অর্থমন্ত্রী ভারোফাকিস আগেই বলেছেন। এখন দাতাকর্ণদের কাছ থেকে ঋণসংক্রারন্ত নতুন কোনো প্রস্তাবনা আসে কিনা সেদিকেই চোখ গ্রিসের মানুষের।

মন্ত্রিপরিষদ ভেঙে যেতে পারে ফিলিস্তিনের

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রপ্রধান মাহমুদ আব্বাস এক চাঞ্চল্যকর বক্তব্য দিয়েছেন। বলেছেন, দেশটির সম্মিলিত সরকার শিগগিরই পদত্যাগ করবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বসমূহই এর কারণ। মাহমুদ আব্বাসের ভাষ্য থেকে এটা পরিষ্কার যে দুই বাঘ এক ঘরে আর টিকতে পারছে না। নিজ দল ফাতাহকে টেক্কা দিয়ে জোট-অংশীদার হামাস দেখাচ্ছে ক্ষমতার স্বেচ্ছাচারিতা। আর এটিই মেনে নিতে পারছেন না আব্বাস।
আক্ষেপের সঙ্গে বলেছেন গাজা উপত্যকার কথা। ওখানে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে হামাস এবং জোট-অংশীদার ফাতাহকে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দিতে রাজি নয়। এ অবস্থায় যৌথ মন্ত্রীপরিষদ নিয়ে শাসন করে যাওয়া সম্ভব নয়। মাহমুদ আব্বাস পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরের এ সম্মেলনে এ তথ্য দেয়ার পর আরও বলেছেন, এমনকি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে পারে যৌথ প্রশাসন।
ইতোমধ্যে দুই দলের যৌথ শাসনতন্ত্রে চলছে ফিলিস্তিন প্রায় এক বছর হয়ে গেল। গত বছর জুন মাসে এই মিলিত সরকার যাত্রা শুরু করেছিল অনেক আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে আসা, দেশের মানচিত্র স্থিতিশীল রাখা, সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখাসহ অনেক প্রতিশ্রুতিই আভ্যন্তরীণ অন্তর্কোন্দলের সুবাদে ইসরায়েলের সুযোগসন্ধানী হস্তক্ষেপে বানের জলে ভেসে গেছে।
দুই পক্ষ কেন সুপ্রতিসমভাবে মিলিত হতে পারছে না, তার পেছনে কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে অতীত ইতিহাস খুব একটা মিত্রতার নয়, বরং বৈরীতারই। যে কারণে এখনও অনেক না তোলা শোধের আগুন বুকে পুষে রেখেছে দুই দলই, যে কারণে এমন অসহযোগীতা। পেছন ফিরলে দেখা যায় ২০০৬ সালে হামাস নির্বাচনে জয়লাভ করার পর গাজা উপত্যকা থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ফাতাহকে উৎখাত করেছিল।
palestine-map
ফাতাহর অসংখ্য অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে সংবেদনশীল অভিযোগ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে যা, তা হলো, হামাসের একটি পরিকল্পনা সম্পর্কে পূর্বানুমান। ফাতাহ অনুমান করছে হামাস শুধুমাত্র গাজাভিত্তিক একটি পৃথক রাষ্ট্র গড়ে তোলার ব্যাপারে ভাবছে। এমন সন্দেহের সপক্ষে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণও নাকি ফাতাহর হাতে আছে।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে রমজান শুরু কাল

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে রমজান মাস শুরু হবে।
মঙ্গলবার সৌদি আরবের আকাশের কোথাও রমজান মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। ফলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে রমজান মাসের তারিখ গণনা শুরু হবে বলে ঘোষণা করেছে সৌদি সুপ্রিম কোর্ট।
এদিকে, রমজান মাসে ইবাদত-বন্দেগি সুন্দর-সুশৃঙ্খল ও নিরবিচ্ছিন্ন করতে মক্কার হারাম শরীফ, মদীনার মসজিদে নববীসহ অন্য মসজিদগুলোতেও রোজাদারদের ইফতার করাতে মসজিদের পাশে ছোট-বড় তাবু টাঙানোসহ নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

কয়েদির অভাবে ৮ কারাগার বন্ধ

বন্দীশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে নেদারল্যান্ডসের অনেক কারাগার। কয়েদির ভারে যখন যুক্তরাজ্যের কারাগারগুলো ন্যুব্জ, তখন উল্টো ঘটনা ঘটেছে নেদারল্যান্ডসে। কয়েদির অভাবে দেশটির আটটি কারাগার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়েছে বলে হাফিংটন পোস্ট-এর খবরে আজ মঙ্গলবার জানানো হয়েছে। খবরে বলা হয়, এমনিতেই নেদারল্যান্ডসে অপরাধের হার অনেক কম। দেশটির কারাগারে ১৪ হাজার কয়েদি রাখার ব্যবস্থা আছে। তবে এখন বন্দী আছে ১২ হাজার।
অপরাধীর সংখ্যা আরও কমবে, এমন আশাবাদের কথা জানিয়েছেন দেশটির উপবিচারমন্ত্রী নেবাহাত আলবেরাক। কয়েদির সংখ্যা কম হওয়ার পরও অপ্রয়োজনে এই খাতে খরচের কোনো প্রয়োজনও দেখছে না সরকার।
তবে এর আগে ৬০টির বেশি সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান দ্য ক্রিমিনাল জাস্টিস অ্যালায়েন্স (সিজেএ) কারাগারের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার সীমিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। কারাগারে শুধু গুরুতর ও সহিংস অপরাধীদের রাখার পক্ষে মত ছিল তাদের। এমন আহ্বানের কিছুদিন পরই সরকার এ পদক্ষেপ নিল।

রমজান উপলক্ষে ইয়েমেনে যুদ্ধ বিরতির আহ্বান

ডেস্ক :   পবিত্র রোজার মাস উপলক্ষে ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করেছেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বান কি মুন।
তিন মাস ধরে চলা সৌদি-ইয়েমন যুদ্ধে সংকট নিরসনে জেনেভায় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় সোমবার এ প্রস্তাব করেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব। তিনি বলেন, রোজার মাস চলে এসেছে। মুসলিমদের কাছে পবিত্র এ মাস উপলক্ষে মানবিক দিক বিবেচনায় ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি আবশ্যক। তিনি সব মহলের প্রতি তাৎক্ষণিকভাবে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানান।
মান কি মুন বলেন, দুই দিন পরই রোজা শুরু হচ্ছে। মানবিক দিক বিবেচনায় এখনই যুদ্ধ বন্ধ করা উচিত। তিনি রমজান উপলক্ষে দুই সপ্তার যুদ্ধ বিরতির আহ্বান জানান দুই দেশকে।
উল্লেখ্য, ইয়েমেনে চলমান যুদ্ধে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ঘরবাড়ি হাড়িয়েছে প্রায় দশ লক্ষাধিক পরিবার।

মারাত্মক খরার কবলে উত্তর কোরিয়া

ডেস্ক: উত্তর কোরিয়ায় স্মরণকালের শোচনীয় খরা দেখা দিয়েছে। ঘনিয়ে উঠছে চলতি ও আগামী বছরে বিপুল খাদ্যঘাটতির আশঙ্কা। উ. কোরিয়ার যে সমস্ত অঞ্চলে ধানের ফলন অধিক, সে সকল স্থানের অন্তত ৩০ শতাংশ ধান গাছ সূর্যের উত্তাপে এবং অত্যধিক জলশূন্যতায় ঝলসে গেছে।
উত্তর কোরিয়ায় খরা থেকে উদ্ভূত দুর্ভিক্ষের স্মৃতি মানুষের মন থেকে এখনও মুছে যায়নি। ১৯৯০ সালের দুর্ভিক্ষে প্রায় হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল দেশটিতে। যে কারণে দুেই দশক পর প্রায় একইপ্রকার খরায় আক্রান্ত হয়ে সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। তবে সরকারী প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এবার আগের মতো শোচনীয় অবস্থা সৃষ্টি হতে দেয়া হবে না।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য প্রকল্পের এক জরীপ থেকে উঠে আসে, উত্তর কোরিয়া বরাবরই খাদ্যাভাব সমস্যায় ভুগে থাকে। জানা যায়, দেশটির এক-তৃতীয়াংশ শিশু পুষ্টিহীনতার শিকার। দেশটির সংবাদসংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে দক্ষিণ হোয়াংহে, উত্তর হোয়াংহে, দক্ষিণ ফিওঙ্গান, দক্ষিণ হ্যামগিয়ং সবচেয়ে শোচনীয় খরার শিকার।
জানা যায়, গত ৩০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত ঘটেছে এবার উত্তর কোরিয়ায়। এটিকে খরার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। জানা যায়, স্থানীয় কৃষকরা ধানের বীজতলায় এখন অন্য ফসল বুনছেন, যেন আসন্ন খাদ্যাভাব কিছুটা হলেও প্রশমিত করা যায়।

বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের মানচিত্র

ন্যাশনাল ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের মধ্য দিয়ে ছিটমহল ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারতের দীর্ঘদিনের জটিলতার আনুষ্ঠানিক অবসান হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করে স্বাধীন হওয়ার পর এ সমস্যা নিরসনে ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধী একটি চুক্তিও করেছিলেন। তবে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ওই চুক্তি কার্যকরের সব প্রক্রিয়া সেরে উঠতে পারেনি ভারত; নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় বসে যা একবছরের মাথায় করেছেন। মোদির ঢাকা সফরে এ চুক্তি অনুসমর্থনের দলিল হস্তান্তর হয় দুদেশের মধ্যে। এরপর জানানো হয় আগামী ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে শুরু হবে বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময়।
আর এর ফলে আরেক দফা বাড়ছে বাংলাদেশের আয়তন; পরিবর্তন আসবে দেশের মানচিত্রেও। তবে নিখুঁত সীমানারেখা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরো বেশ কয়েক মাস। এই বিনিময়ের ফলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে খুব বেশি লাভবান না হলেও দীর্ঘদিনের মানবিক সমস্যার সমাধান হচ্ছে।
বাংলাদেশ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুল জলিল  বলেন, ‘দুদেশের মধ্যে স্থল সীমান্ত চুক্তি বিনিময়ের ফলে কোথাও ভারতের সীমানারেখা বাংলাদেশের বর্তমান সীমানার ভেতর ঢুকে যাবে। আবার ঠিক উল্টো ঘটনাও ঘটবে। এই পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের আয়তন কত হচ্ছে তা এই মুহুর্তে বলা সম্ভব না। কেননা অধিদপ্তর এখনো দলিল হাতে পায়নি। দলিল পাওয়ার পর সীমানা পিলার স্থাপনের পরই নিখুঁতভাবে আয়তন জানানো যাবে।’
এর আগে সমুদ্রসীমা মামলায় নেদারল্যান্ডসের স্থায়ী সালিশি আদালতের রায়ে বঙ্গোপসাগরে ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ ২৫ হাজার ৬০২ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা পায় বাংলাদেশ। বাকি ছয় হাজার ১৩৫ বর্গকিলোমিটার পেয়েছে ভারত। গত বছর ৭ জুলাই ওই রায় পাওয়া যায়। তারও আগে মিয়ানমারের সঙ্গে রায়ে বাংলাদেশ পায় ৭০ হাজার বর্গ কিলোমিটার। এ সবই যোগ হবে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বাংলাদেশের সঙ্গে।
সমুদ্রসীমা রায়ের ফলে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের সীমা, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মহীসোপানের তলদেশে অবস্থিত সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের উপর সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।
অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশের মানচিত্রে যোগ হচ্ছে আরো নীট ১০ হাজার ৫০ একর জমি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ কীভাবে লাভবান হবে তা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে জানান, ‘এর ফলে সবচেয়ে বড় লাভ হলো ছিটমহলবাসীর মানবিক সমস্যার সমাধান হবে।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চুক্তিটি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের চার রাজ্য- আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গের সীমানারেখায় পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে ছিটমহল সমস্যা, অপদখলীয় ভূমি ও অচিহ্নিত সীমানা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক পুস্তিকার মুহুরী নদী (বিলোনিয়া) সেক্টর শিরোনামে বলা হয়েছে, বিদ্যমান সীমানা পিলার (২১৫৯/৪৮-এস) থেকে সীমানারেখা আরো পশ্চিম দিকে টেনে ১৯৭৭-৭৮ সালের যৌথ সমীক্ষার ভিত্তিতে তৈরি মুহুরী নদী এলাকার নকশায় প্রদর্শিত বার্নিংঘাটের দক্ষিণ সীমায় গিয়ে মিলবে। এরপর তা উত্তর দিকে বাঁক নিয়ে বার্নিংঘাটের বাইরের সীমা বরাবর গিয়ে বর্তমান মুহুরী নদীর কেন্দ্রে মিশবে। এটি আবার বিদ্যমান মুহুরী নদীর মধ্যস্রোত বরাবর গিয়ে ২১৫৯/৩-এস সীমান্ত পিলার পর্যন্ত যাবে। এটি হবে স্থায়ী সীমানা। তৃতীয় অংশে ‘লাঠিটিলা ও ডুমাবাড়ি’ শিরোনামে রেডক্লিফের আঁকা সীমানারেখা ১৩৯৭ নম্বর পিলার থেকে সোজা দক্ষিণে ডুমাবাড়ি, লাঠিটিলা ও বড় পুটনিগাঁও মৌজার লোহার ব্রিজ পর্যন্ত এবং এরপর তা দক্ষিণ দিকে পুটনিছড়া বরাবর সিলেট-ত্রিপুরা সীমান্ত পর্যন্ত (পিলার নম্বর ১৮০০) টানার কথা বলা হয়েছে।
চতুর্থ অংশে দইখাতা ৫৬ (পশ্চিমবঙ্গ-জলপাইগুড়ি)/পঞ্চগড় শিরোনামে বলা হয়েছে, এই অংশের স্থায়ী সীমান্তরেখা ১৯৯৭-৯৮ সালের জরিপ অনুযায়ী দইখাতা-৫৬-এর সীমানা বরাবর ৪৪৪/৬ নম্বর সীমান্ত নকশায় (স্ট্রিপ শিট) বিদ্যমান ৭৭৪/৩২-এস সীমান্ত পিলার থেকে শুরু হবে। এরপর তা দইখাতা-৫৬-এর (পূর্ব থেকে পশ্চিম) দক্ষিণ সীমানা অনুসরণ করে ১৮ নম্বর পয়েন্ট পর্যন্ত যাবে।
প্রটোকলের তৃতীয় অনুচ্ছেদে পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও আসাম সেক্টরে অপদখলীয় ভূমির সীমানা প্রসঙ্গে বলা হয়, ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১১ সালের আগস্ট পর্যন্ত উভয় দেশের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে চূড়ান্ত করা অপদখলীয় ভূমির নকশা অনুযায়ী অপদখলীয় ভূমি বিনিময়ের মাধ্যমে স্থায়ী সীমান্ত নির্ধারিত হবে।
বোসমারী-মাধুগারি (কুষ্টিয়া-নদীয়া) এলাকা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, যৌথ জরিপ ও ২০১১ সালের জুন মাসে দুই দেশের সম্মতি অনুযায়ী, এ সীমান্ত ১৯৬২ সালের মানচিত্র অনুসারে ১৫৪/৫-এস সীমানা পিলার থেকে শুরু করে মাথাভাঙ্গা নদীর পুরনো ধারা অনুসরণ করে ১৫১/১-এস নম্বর সীমান্ত পিলারে গিয়ে মিশবে।
চর মহিষকুণ্ডি (কুষ্টিয়া-নদীয়া) এলাকা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, যৌথ জরিপ ও ২০১১ সালের জুনে উভয় দেশের সম্মতির ভিত্তিতে এ এলাকার সীমানারেখা বিদ্যমান সীমান্ত পিলার ১৫৩/১-এস থেকে টেনে মাথাভাঙ্গা নদীর তীর বরাবর ১৫৩/৯-এস নম্বর সীমান্ত পিলার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে।
বেরুবাড়ী (পঞ্চগড়-জলপাইগুড়ি) এলাকা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ১৯৯৬-১৯৯৮ সালে যৌথভাবে চিহ্নিত সীমান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের অপদখলে থাকা বেরুবাড়ী (পঞ্চগড়-জলপাইগুড়ি) এবং ভারতের অপদখলে থাকা বেরুবাড়ী ও সিংঘাপাড়া-খুদিপাড়ার (পঞ্চগড়-জলপাইগুড়ি) সীমানারেখা আঁকা হবে। প্রটোকলের অপদখলীয় ভূমি অংশে মেঘালয় সেক্টরের ছয়টি এলাকার উল্লেখ রয়েছে।
ডাউকি/তামাবিল এলাকা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ১২৭৫/১-এস নম্বর সীমান্ত পিলার থেকে ১২৭৫/৭-এস নম্বর সীমান্ত পর্যন্ত সীমান্তরেখা আঁকা হবে। উভয় পক্ষ এ সীমান্তের শূন্যরেখায় বেড়া দেয়ার ব্যাপারেও সম্মত হয়েছে। মুক্তাপুর-ডিবির হাওর এলাকা প্রসঙ্গে প্রটোকলে বলা হয়েছে, ভারতীয় নাগরিকরা এ এলাকার কালীমন্দির পরিদর্শন করতে পারবেন। এছাড়া মুক্তাপুর এলাকার পাড় থেকে মুক্তাপুর/ডিবির হাওর এলাকার জলসীমানা থেকে ভারতীয় নাগরিকরা পানি উত্তোলন ও মাছ ধরতে পারবেন।
বাংলাদেশের বর্তমান সীমান্ত তৈরি হয়েছিল ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনাবসানের ফলে। বর্তমান বাংলাদেশের অঞ্চল তখন পূর্ব বাংলা নামে পরিচিত ছিল, যেটি নবগঠিত দেশ পাকিস্তানের পূর্ব অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পাকিস্তান অধিরাজ্যে থাকারকালে পূর্ব বাংলা থেকে পূর্ব পাকিস্তান -এ নামটি পরিবর্তন করা হয়েছিল। পাকিস্তানী শাসনের অবসান হলে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রথম মুখোমুখি হয় সীমানা চিহ্নিতকরণ সমস্যার। তিনদিকে ভারতের সীমান্ত থাকায় ১৯৭৪ সালে দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

ভারতে বরযাত্রীবাহী বাস বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, নিহত ২৫

টাইমস ডেস্ক: ভারতের রাজস্থানে বরযাত্রীবাহী একটি বাস বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত হয়েছেন ২৫ জন। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে টংক জেলার পাচিভার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই বাসের অধিকাংশ আরোহী ছিলেন পাচিভার গ্রামের। তারা বাসে করে দল বেঁধে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। খবর এনডিটিভি।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, বাস বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর আরোহীরাও বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়েন। এ কারণে কারও পক্ষেই বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। তার ছিঁড়ে অল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের একটি অংশ প্রাণে বেঁচে যান।
পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেছেন। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে টুইটারে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। হতাহতদের রাজ্যের পক্ষ দ্রুত সহযোগিতার কথাও বলেছেন তিনি।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গ্রামের উপর দিয়ে যাওয়া ১১কেভি বৈদ্যুতিক তারটি সরিয়ে ফেলার জন্য তারা কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেয়নি।
আহত বেশ কয়েকজনকে মালপুরার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাদের জয়পুরের এমএসএম হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গুগল জিডিজি সম্মেলনে প্রশংসিত বাংলাদেশ

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি প্রতিবেদক : গত ২৬ ও ২৭ মে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির মাউন্টেন ভিউয়ে গুগল ক্যাম্পাসের কম্পিউটার হিস্ট্রি মিউিজয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী গুগল ডেভেলপারস গ্রুপ বা জিডিজি গ্লোবাল সামিট। এই সম্মেলনের নির্ধারিত প্রথম আলোচনায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।
গুগল অনুবাদে মাতৃভাষার জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান রেখে নজির সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। ইন্টারনেটে নিজের ভাষাকে সমৃদ্ধ করতে বাংলাদেশের এই উদাহরণ থেকে সারা পৃথিবীর শেখার আছে বলে জানান গুগল ট্রান্সলেট কমিউনিটির প্রোগ্রাম ম্যানেজার স্ভিটা কালম্যান।
গুগল অনুবাদে বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করতে বাংলাদেশে গুগল ডেভেলপারস গ্রুপ বা জিডিজি বাংলার উদ্যোগে গত ২৬ মার্চ আয়োজিত ‘বাংলার জন্য চার লাখ’ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয় সম্মেলনের প্রথম আলোচনায়। সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, ওইদিন বাংলার জন্য অনুবাদের সংখ্যা ছিল সাত লাখের বেশি। সেই সঙ্গে আগামী ৫ জুনের মধ্যে বাংলাদেশের এই রেকর্ড ভাঙতে পারলে বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। আর এই নজিরবিহীন অবদানের জন্য বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় বাংলাদেশ।
জিডিজি সম্মেলনে এ বছর ১০০টির বেশি দেশ থেকে প্রায় ৪০০ জিডিজি কমিউনিটি ম্যানেজার অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে জিডিজি বাংলার দুই কমিউনিটি ম্যানেজার জাবেদ সুলতান পিয়াস, জাবেদ মোর্শেদসহ মোট ৫ জন অংশ নিয়েছেন জিডিজির সবচেয়ে বড় এই আয়োজনে।
সম্মেলনের প্রথম দিনে গুগল ট্রান্সলেট কমিউনিটি ছাড়াও গুগল ডেভেলপার এক্সপার্ট প্রোগ্রাম, গুগল এডুকেশন প্রোগ্রাম, গিটবুক, কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট, গুগল লঞ্চপ্যাডনসহ গুগলের বর্তমান ও ভবিষ্যত কিছু প্ল্যাটফরম নিয়ে আলোচনা করা হয়। সবার জন্য ছিল পারস্পরিক যোগাযোগের বিশেষ কর্মশালা। সম্মেলেনর দ্বিতীয় দিন বুধবারে গুগলের বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে ২৬টি বিষয়ের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
জিডিজি সম্মেলনের পর ২৮ ও ২৯ মে স্যান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত হবে গুগলের সবচেয়ে বড় বার্ষিক সম্মেলন গুগল আইও। বরাবের মতো এ বছরও এই সম্মেলন থেকে গুগলের নতুন কোনো প্রযুক্তিগত চমকের ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিজিজি সম্মেলেনর আগে গত ২৫ মে গুগলের নান্দনিক অফিসের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখানো হয় অংশগ্রহণকারীদের। তুলে ধরা হয় গুগলের এগিয়ে যাওয়ার ইতিহাস।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর মাসে ‘সীমানা ছাড়িয়ে বাংলা’ শ্লোগানে ইন্টারনেটে বাংলা ভাষাকে ছাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে শুরু হয়, বাংলাদেশে গুগল ডেভেলপারস গ্রুপ ‘জিডিজি বাংলার’ কার্যক্রম।
গুগল ট্রান্সলেটে বাংলা অনুবাদের সুবিধা থাকলেও এটি আগে তেমন সমৃদ্ধ ছিল না। গুগলের বাংলা ভাষাভিত্তিক ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ ‘জিডিজি বাংলা’ গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে সবার অংশগ্রহণে বাংলা অনুবাদ সেবা সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়। আর এই কার্যক্রমের জন্যই জিডিজি সম্মেলনে প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশ।
আগ্রহী যে কেউ https://translate.google.com/community ঠিকানার ওয়েবসাইটে গিয়ে গুগল অনুবাদে বাংলা শব্দ যোগ করতে বা বাক্য গঠন, সংশোধন করতে পারবেন।

সমুদ্রসম্পদ আহরণে সমঝোতায় আগ্রহী চীন

বঙ্গোপসাগরের সম্পদ আহরণে সার্বিক সহযেগিতা দিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করতে আগ্রহী চীন। এজন্য গত বুধবার বাংলাদেশের কাছে সমঝোতা চুক্তির একটি খসড়াও পাঠিয়েছে দেশটি। উল্লেখ্য, এর আগে বঙ্গোপসাগরের সম্পদ আহরণে সহযোগিতা চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু চীনের পক্ষ থেকে সেভাবে সাড়া না পাওয়ায় ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি করে বাংলাদেশ। গত ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকালে এ বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি হয়। মোদির ঢাকা সফরের চার দিনের মাথায় চীন সরকারও ভারতের মতো সমঝোতা চুক্তির একটি খসড়া বাংলাদেশকে দেয়। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের সম্পদ আহরণে সার্বিক সহযোগিতা বিষয়ে চীনের পাঠানো খসড়াটিও খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বঙ্গোপসাগরের সম্পদ আহরণে ভারতের সঙ্গে স্বল্প পরিসরে সহযোগিতা চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। কারণ, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা ভাগাভাগি হওয়ার পর বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের সম্পদ আহরণে জোরালো উদ্যোগ নেয়। এ ব্যাপারে বিভিন্ন দেশের কাছে সহযোগিতাও চাওয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশের নিজস্ব প্রযুক্তি বা এ ব্যাপারে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রথমে চীন ও পরে ভারতের কাছে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বাংলাদেশের এই প্রস্তাবে সাড়া দিতে চীন দেরি করলেও ভারত দেরি করেনি। তাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক ঢাকা সফরকালে এ বিষয়ে সমঝোত চুক্তি হয়। সূত্র জানায়, এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করার ক্ষেত্রে কিছুটা সীমাবদ্ধতা অবলম্বন করা হয়। কারণ, যেহেতু এ বিষয়ে বাংলাদেশের তেমন কোনো অজ্ঞিতা নেই, তাই শুধুমাত্র উপকুলীয় নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ ও জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সমঝোতা চুক্তি করা হয়। কিন্তু গভীর সমুদ্র এলাকার সম্পদ আহরণে কোনো দেশের সঙ্গে এ পর্যন্ত সহযোগিতা চুক্তি করা হয়নি। এদিকে বঙ্গোপসাগরের সম্পদ আহরণে সার্বিক সহযেগিতা দিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির যে খসড়া পাঠিয়েছে চীন, তাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। গভীর সমুদ্র এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণে চীনের সঙ্গে কোনো সহযোগিতা চুক্তি করা যায় কিনা, তা ভেবে দেখছে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে সম্ভাবনা দেখা গেলে আগামী সেপ্টেম্বরে চীনের সঙ্গেও একটি সহযোগিতা চুক্তি করতে পারে বাংলাদেশ। কারণ, ওই সময় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের ঢাকা সফরে আসার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চীনের প্রধানমন্ত্রী ঢাকা আসতে পারেন বলে জানা গেছে।

অভিবাসী সংকটের দায় নিতে মিয়ানমারের অনীহা

অভিবাসী সংকটের দায় নিতে অনীহা প্রকাশ করেছে মিয়ানমার। অভিবাসীদের বিষয়ে তাদের কোন দায়িত্ব নেই বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সাগরে ভাসমান অভিবাসীদের বিষয়ে এ কথা জানিয়েছে মিয়ানমার। দেশটির প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানায়, অভিবাসী বিষয়ে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলেও, আমন্ত্রণপত্রে রোহিঙ্গা শব্দের উল্লেখ থাকলে মিয়ানমার তাতে যোগ দেবে না। মিয়ানমারের উপকুলের কাছাকাছি মুক্তিপণের জন্য এক হাজারের বেশি অভিবাসীকে আটকে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশ থেকে যাওয়া কয়েক হাজার রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি এখনো নৌকায় আন্দামান সাগরে ভাসছেন। জাতিসংঘের আহবান উপেক্ষা করে তাদেরকে নিজেদের তীরে ভিড়তে দিচ্ছে না থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনী। অপরদিকে খাবার বা পানি ছাড়াই নৌকায় তাদের রেখে পালিয়ে গেছে পাচারকারীরা। এই অভিবাসীরা চরম মানবিক সংকটে রয়েছে এবং তাদের জীবনসংশয়ও দেখা দিয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সেখানে খুবই বড় ধরণের মানবিক বিপর্যয় ঘটতে চলেছে। সমুদ্রে অনেক নৌকায় অসংখ্য মানুষ ভাসছে, যারা খাবার ও পানির অভাবে মারা যেতে বসেছে। তবে কোন দেশই তাদের রক্ষায় ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মিয়ানমারের উপকূলে কমপক্ষে পাঁচটি নৌকা একহাজারের বেশি অভিবাসীকে আটকে রেখেছে পাচারকারীরা, যাদের মুক্তিপণ দেয়া না হলে ছাড়া হবে না বলে তারা জানিয়েছে। অভিবাসীদের এই সংকটের বিষয়ে আলোচনার জন্য ১৫টি দেশকে নিয়ে এক জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে থাইল্যান্ড। তবে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে তাদের আমন্ত্রণ পত্রে রোহিঙ্গা শব্দের উল্লেখ থাকলে, তারা ওই বৈঠকে অংশ নেবে না। অভিবাসী সংকটের দায়িত্বও তাদের নয় বলে দেশটি দাবি করেছে। এদিকে নৌকায় থাকা অভিবাসীদের আশ্রয় দেয়ার জন্য থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষকে আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘ। কিন্তু এই আহবান উপেক্ষা করেই নৌকাগুলোকে গভীর সমুদ্রে ঠেলে দিচ্ছে দেশগুলো।

নেপালে ভূমিকম্পের পর ভূমিধস: নিহত ৩৬

নেপালের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলে বুধবারের ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬য়ে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে আরো বেশ কয়েকজন। এছাড়া এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২৭ জনের বেশি মানুষ।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ‘নেপালি টাইমস’ পত্রিকাটি জানিয়েছে, বুধবার অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের তাপলেজুং জেলার বিভিন্ন গ্রামে ভূমিধস আঘাত হানে। তবেেএতে থিংলয়া, খোকলিং ও লিংতেপ গ্রামের লোকজন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আরো ছয়টি মৃতদেহ উদ্ধার করার পর দেশটিতে ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৩৬য়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে একই পরিবার থেকে নিহত হয়েছেন ১০ জন। আহত হয়েছে আরো ১০ জন। এদের মধ্যে আট জনের অবস্থা গুরুতর।নেপালে প্রতিবছর ভূমিকম্প এবং ভূমিধসের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু লোক মারা যায়। গত ২৫ এপ্রিল দেশটিতে আঘাত হেনেছিল ভয়াবহ ভূমিকম্প। এতে ৮ হাজার ৭শ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল এবং ধ্বংস হয়েছিল পাঁচ লাখের মত ঘরবাড়ি। ওই দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার আগেই এই ভূমিধস আঘাত হানল।

৩ বিয়ে করলেই থাকবে না পানির সমস্যা!

ভারতের মধ্যপ্রদেশের বুন্দেলখন্ড অঞ্চলের তিকমগড়, ছাতারপুর, পান্না, দামোহ এবং সাগর এলাকায় বছরের পর বছর ধরে পারির ঘাটতি রয়েছে। এই সঙ্কট আরো তীব্র হয় গ্রীষ্মকালে। অনেক দূর থেকে তাদের পানি সংগ্রহ করতে হয়। দীর্ঘ পথ পারি দিয়ে পানি আনতে গিয়ে অনেক নারী মারাও যায়।
তাই ওই এলকার পানির সঙ্কট মিটাতে বহুবিয়ের বিধান জারি করলেন বুন্দেলখন্ড এলাকার তিকমগড় জেলার সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট। যদিও বুন্দেলখন্ডের এ পাঁচ জেলায় কেউ মেয়ের বিয়ে দিতে চায় না পানির সমস্যা থাকায়। কারণ সবাই জানে, বিয়ে দিলেই তার মেয়েকে দীর্ঘ পথ হেঁটে পানি তুলে তা বয়ে আনতে হবে।
এসডিএম বি কে পান্ডে লিধোরা গ্রামের এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, ‘একজন স্ত্রী থাকবে সন্তানের জন্ম দেয়ার জন্য। আর অন্য দুই স্ত্রী দূর থেকে পানি আনার জন্য থাকবে। তাতেই মিটবে ঘরের পানি সঙ্কট।’
নিজের এ উদ্ভট মন্তব্যের ব্যাখ্যায় পান্ডে বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমি বাইওয়াড় গ্রামের জাতারা ব্লকে গিয়েছিলাম, তখন দেখেছিলাম রাত ২টার সময়ও এক নারী অনেক দূর থেকে পানি আনছেন। কারণ ঘরের কাজ করে তাকে পানি আনতে হয়।’
তিনি বলেন, ‘যারা পানি খেতে চায় তাদের তিনটি বউ থাকা উচিৎ। তবে যারা করিৎকর্মা নয় তিনটি বউ তাদের সাধ্যের বাইরে।’

শনিবার তানোর যাচ্ছেন সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত

সারাদেশের একটি মাত্র উপজেলা পরিদর্শনের জন্য তানোরকে বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান এম. ফচ। আগামী শনিবার (১৩ মে) রাজশাহীর তানোর উপজেলায় যাচ্ছেন তিনি।
এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনীরুজ্জামান ভুইয়া। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তা বদিউজ্জামান, উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, উপজেলা কৃষি বিষয়ক কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার, তানোর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল ওহাব প্রমুখ।সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান এম. ফচ সারাদেশের একটি মাত্র উপজেলা পরিদর্শন করার জন্য তানোর উপজেলাকে বেছে নিয়েছেন। আগামী শনিবার তানোর উপজেলায় আসবেন তিনি। সফরকালে তানোরের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে মত বিনিময় করার পাশাপাশি বিকেলে উপজেলা পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশনেও উপস্থিত থাকবেন তিনি।পরে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকার-বেসেরকারি অফিস পরিদর্শন করবেন ক্রিশ্চিয়ান।