জাতীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জাতীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বকশীগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে পারছে না ৩ নারী ইউপি সদস্য!


জামালপুর জামালপুরের বকশীগঞ্জে ভিজিডির চাল বিতরণে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ৩ নারী সদস্যকে  লাঞ্ছিত করে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বের করে দিয়েছে চেয়ারম্যান। ভবিষ্যতে পরিষদে না আসতেও হুমকি দেয় চেয়ারম্যান। একারণে তারা ইউনিয়ন পরিষদে যেতে পারছে না। তবে ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন তাদের সাথে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে। পরিষদ থেকে বের করে দেয়ার বিষয়টি সঠিক নয়।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার নিলাক্ষিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবি গত বুধবার ৩ শ ১৫ জন ভিজিডির কার্ডধারীদের মাঝে দুই মাসের বরাদ্ধকৃত ৫০ কেজি চালের স'লে  ৪০ কেজি করে বিতরণ করছিলো। ওই সময় কার্ডধারীদের মাঝে চাল কম দেয়ার বিষয়ে প্রতিবাদ করেন ৩ নারী ইউপি নারী সদস্য। এতে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচনে আমার পছন্দের প্রার্থীকে তোমরা ভোট দাওনি। তাই আমার কাছে তোমাদের কোন কাজ নেই। এক পর্যায়ে ইউপি নারী সদস্যাদের অশ্লিল ভাষায় গালাগালি করে পরিষদ থেকে বের করে দেন। ভবিষ্যতে পরিষদে না আসার জন্য হুমকি দেন তিনি।
এ ঘটনায় ১৮ জুন ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবির বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই তিন নারী ইউপি সদস্যরা।
ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগম ও ছাবেকুন বেগম জানান, উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচনে চেয়ারম্যানের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট না দেয়ায় চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবি আমাদের উপর ক্ষিপ্ত ছিল , ওইদিন চাল কম দেয়ায় এর প্রতিবাদ করায় আমাদের  পরিষদ থেকে বের করে দিয়েছেন চেয়ারম্যান।
এব্যাপারে বকশীগঞ্জ ইউএনও নার্গিস পারভীন বলেন, নারী সদস্যদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস'া নেয়া হবে।

কমিউনিটি ক্লিনিকে আট শতাধিক সিএইচসিপি নিয়োগ


দেশের বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে আট শতাধিক কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) শূন্য পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। চূড়ান্তভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ২৫ জুনের মধ্যে নিজ জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কাজে যোগদান করার নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘রিভাইটালাইজেশন অব কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ইনিশিয়েটিভস ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের পরিচালক ড. মাখদুমা নার্গিস শুক্রবার বিকেলে জাগো নিউজকে জানান, ইতিমধ্যেই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের নিয়োগপত্র ডাকযোগে তাদের স্থায়ী ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, শূন্যপদের মোট সংখ্যা সাড়ে আটশর মতো হলেও সংরক্ষিত মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূরণ না হওয়ায় আনুমানিক শতাধিক পদে নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। প্রকল্প না হয়ে রাজস্ব খাতে হলে শূন্য কোটা পূরণ হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কমিউনিটি প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ এপ্রিল সিএইচসিপি পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সাড়ে আটশ’ পদের বিপরীতে প্রায় ২০ হাজার প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। মোট শূন্যপদের সংখ্যার বিপরীতে মৌখিক পরীক্ষার জন্য পাঁচগুণ প্রার্থী নির্বাচিত করা হয়। পরবর্তীতে ১৬ মে থেকে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ শেষে ১৮ জুন চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতি ছয় হাজার জনসংখ্যার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে বর্তমানে দেশে মোট সাড়ে ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও একজন করে সিএইচসিপি রয়েছে।

ক্লিনিকগুলোতে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, শিশুকালীন সমন্বিত অসুস্থতাজনিত চিকিৎসা, প্রজনন স্বাস্থ্য, টিকাদান, টিবি, ম্যালেরিয়া, নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষাদান, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মূল দায়িত্ব পালন করেন সিএইচসিপি।

প্রকল্প কার্যালয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ১০ কোটি মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে। তন্মধ্যে ২১ লাখেরও বেশি রোগীকে পরবর্তী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

মোদির সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের সাক্ষাৎ


সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। রোববার দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদের নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎ শেষে মাতলুব সাংবাদিকদের বলেন, আমরা দুই দেশের বেসরকারি খাতে যৌথ একটি গ্রুপ গঠনের বিষয়টি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছি। বিজিএমইএ ভারতের ৫০ একর জমি চেয়েছেন। এর মাধ্যমে উন্নতমানের পোশাক আমরা রফতানি করতে পাবো। বিজিএমইয়ের এ প্রস্তাবে মোদি নিজেই আমাদের বলেছেন, আমরা আপনাদের স্বাগত জানাবো।

তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে যেসব চুক্তি করেছেন, তা দুই দেশের ব্যবসায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। এর ফলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা ঘাটতি কমে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। বিভিন্ন চুক্তির সম্পাদনের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের বিভিন্ন চেম্বারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়।

সাক্ষাৎকালে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলে ছিলেন এফবিসিসিআইর প্রথম সহ-সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, এমসিসিআইর সভাপতি নাসিম মঞ্জুর, ডিসিসিআইর সভাপতি হোসেন খালেদ, বিজেএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ-ভারত চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম চেম্বারের মাহবুবুল আলম, রাজশাহী চেম্বারের মনিরুজ্জামান, খুলনা চেম্বারের কাজী আমিনুল হক, সিলেট চেম্বারের সালাহউদ্দিন আলী আহমেদ, বরিশাল চেম্বারের সাইদুর রহমান রিন্টু, রংপুর চেম্বারের মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী প্রমুখ।

এমপি পুত্র রনি কাশিমপুর কারাগারে

সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে বখতয়িার আলম রনিকে ঢাকা থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে এ কারাগারে আনা হয়।  কারাগারের জেলার জান্নাতুল ফরহাদ জানান, বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব তাকে হাইসিকিউরিটিট কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
গত ১৩ এপ্রিল রাতে নিউ ইস্কাটনে তার নিজ গাড়ি থেকে ছোড়া গুলিতে এক অটোরিকশা চালক এবং এক রিকশাচালক মারা যান।  যানজটের মধ্যে আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে রনি ওই গাড়ি থেকে গুলি চালান বলে অভিযোগ ওঠে।  গণমাধ্যমের খবর, মাতাল অবস্থায় থাকা রনি যানজটে র্দীঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালান।  এদিকে পিস্তলের গুলিতেই যে ঢাকার নিউ ইস্কাটনে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে তা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

সরকারি ভাতার সংখ্যা কমাতে চান মুহিত


সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতার সংখ্যা কমানো উচিৎ বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ইচ্ছে ছিল সরকারি, আধা-সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা। এত্ত ভাতা আছে আমাদের! এগুলো রাইটের মতো হয়ে গেছে, হাত দেয়া যায় না। আমি বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ও আপ্যায়ন ছাড়া অন্য সব ভাতা উঠিয়ে দিতে চেয়েছিলাম।’বেতন ও চাকরি কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে গত ১৩ মে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন ধরে বেতন কাঠামো সুপারিশ করে সচিব কমিটি। এখন অর্থমন্ত্রণালয় সচিব কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি চূড়ান্তে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করবে।সপ্তম পে-কশিনের প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পর্যালোচনার পর একটি মন্ত্রিসভা কমিটি হয়েছিল । এবার এধরনের কমিটি হবে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি অর্থমন্ত্রী। মুহিত জানান, আগামী মাসের মধ্যে পে-কমিশনের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হবে। যখনই এটা চূড়ান্ত হোক না কেন জুলাই থেকেই কার্যকর হবে।স্থায়ী পে-কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মুহিত বলেন, পাঁচ বছর পর পর পে-স্কেল ঘোষণার বিষয়টি এবারই শেষ। একটা স্থায়ী পে-কমিশন গঠনের চিন্তা-ভাবনা চলছে। এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সমন্বয় হবে।এদিকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন অর্থমন্ত্রীর কাছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল ঘোষণার দাবি জানান।তারা অর্থমন্ত্রীর কাছে বৈষম্য দূরীকরণসহ চার দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দেন। এ বিষয়ে শিক্ষক নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা হতাশ। দাবি বাস্তবায়িত না হলে আন্দোলন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন তারা।এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের দাবিগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামালসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

৭৯ রানে ভারতকে হারাল বাংলাদেশ

taskin
 ১২৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো ধুঁকছিল সফরকারী ভারত। এরপর রায়না ও জাদেজা মিলে অসাধারণ এক জুটি গড়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে নেয়ার জোর চেষ্টা চালান। তবে মুস্তাফিজুর রহমানের জোড়া আঘাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। ৩৭তম ওভারে পরপর দুই বলে রায়না ও অশ্বিনকে আউট করে বাংলাদেশকে জয়ের পথেই রাখেন এই অভিষিক্ত পেসার।

মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ এবং সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২২৮ রানে অলআউট হয়েছে ধোনির ভারত। বাংলাদেশ প্রথম  ওয়ানডেতে জিতে গেল ৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে।
প্রথম ওয়ানডে ম্যাচেই উত্তেজনা-রোমাঞ্চ বেশ জেঁকে ধরেছে টাইগার সমর্থকদের। ভারতের বিরুদ্ধে জয়ের নেশায় বুদ গোটা বাংলাদেশ। জয়ের জন্য চ্যালেঞ্জিং স্কোরও গড়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার মিরপুরে শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪৯.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৩০৭ রান। ৩০৮ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করছে সফরকারী ভারত।
উদ্বোধনী জুটিতে শেখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মা মিলে ৯৫ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে তাসকিন আহমেদ পরপর দুই ওভারে ভারতীয় শিবিরে জোড়া আঘাত হেনে মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দর্শকদের গর্জন তুলেন। একে একে ধাওয়ান ও বিরাট কোহলিকে বিদায় করেন এই তরুণ পেসার।
এরপর মুস্তাফিজুর রহমান ওপেনার রোহিত শর্মাকে আউট করে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে গর্জন তুলেন। এই অভিষিক্ত পেসারের লাফিয়ে উঠা বলে বিভ্রান্ত হয়ে মিড অফে দাঁড়িয়ে থাকা মাশরাফিকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন রোহিত। আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচে এটিই মুস্তাফিজুর রহমানের প্রথম উইকেট।
১১৫ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতকে চেপে ধরেছে বাংলাদেশ। পরের ওভারে মুস্তাফিজুর রহমান ফের ভারতীয় শিবিরে আঘাত হেরে মিরপুরের ২৩ হাজার দর্শকদের উল্লাসে মাতান, হাসি ফোটান কোটি কোটি দর্শকের। মুস্তাফিজের স্লোয়ার বলে বিভ্রান্ত বলে নাসিরকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন আজিঙ্কা রাহানে। এই ভারতীয় ব্যাটসম্যান রানের জন্য রীতিমতো সংগ্রাম করেন। ২৫ বলে মাত্র ৯ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন তিনি।
২৫ ওভার পেরিয়ে গেলেও সাকিবকে আক্রমণে আনেননি মাশরাফি বিন মুর্তজা। কিছুটা কী ক্ষেপে ছিলেন এই অলরাউন্ডার। ২৬তম ওভারে নিজের প্রথম ওভার করতে এসেই সবচেয়ে দামি উইকেটটি তুলে নিলেন দেশসেরা এই ক্রিকেটার। সাকিবের স্পিনে নাকাল হয়ে মুশফিককে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন ভারতীয় অধিনায়ক এমএস ধোনি। ইনিংসের শুরুতে দু’দুটি ক্যাচ মিসের মূল্য যেন শোধ করলেন মুশফিক। অসাধারণ এক ক্যাচ লুফে বাংলাদেশের দর্শকদের আনন্দে মাতান তিনি।
mustafiz
১২৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়া ভারতকে খাদের কিনারা থেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন জাদেজা ও সুরেশ রায়না। ষষ্ঠ উইকেটে এই দুজনের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে ভারত। তবে ফের মুস্তাফিজুর রহমানের আঘাতে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। এই অভিষিক্ত পেসারের করা ৩৭তম ওভারে চতুর্থ বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন সুরেশ রায়না। মুস্তাফিজের ইনসুয়ং বলে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন রায়না। পরের বলে অশ্বিনকে আউট করে বাংলাদেশকে জয়ের পথ দেন এই অভিষিক্ত পেসার। এক ওভার পর ফের বোলিংয়ে এসে ভারতের কোমর ভেঙে দেন মুস্তাফিজ। বাংলাদেশের জয়ের পথের শেষ বাধা জাদেজাকে আউট করে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান এই তরুণ পেসার।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভারতের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৯৫ রান। ভুবনেশ্বর কুমার ৫ ও মোহিত শর্মা ০ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।
এর আগে ব্যক্তিগত ১৫ রানে আউট হতে পারতেন ওপেনার শিখর ধাওয়ান। ৯.২ ওভারের মাথায় মাশরাফির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ধাওয়ান। কিন্তু সহজ ক্যাচ তালুবন্দী করতে পারেননি অনেকদিন পর কিপিংয়ে ফেরা মুশফিকুর রহীম। অথচ মাশরাফির আবেদনে আউট দিয়েছিলেন আম্পায়ার। পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
তারপরও বেশিদূর আগাতে পারেননি ধাওয়ান। ব্যক্তিগত ৩০ রানের মাথায় তাসকিনের বলে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ভারতীয় এই ওপেনার। সেই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয় ভারতের ওপেনিং জুটি। উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ৯৫ রান।
এরপর দ্বিতীয় উইকেটে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা মিলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তবে ফের তাসকিন আহমেদ ভারতীয় শিবিরে আঘাত হেনে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান। তাসকিনের শর্ট অব লেংথ বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ভারতের টেস্ট অধিনায়ক। ৪ বলে মাত্র ১ রান করে আউট হন তিনি। অল্প সময়ের ব্যবধানে রোহিতকে আউট করে বাংলাদেশকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। পরের ওভারে রাহানেকে আউট করে ভারতকে চেপে ধরেন এই অভিষিক্ত পেসার।
এই প্রথম ভারতের বিপক্ষে ৩০০ পার করেছে বাংলাদেশ। এই বছর তৃতীয়বারের মতো তিন শ পার করল টাইগাররা। আগের দুবার হারেনি। এবার কি পারবে বাংলাদেশ?
পরের পরিসংখ্যান আরও আশা-জাগানিয়া। সর্বশেষ ১৯ মাসে পরে​ ব্যাট করে ২৩ ইনিংসে একবারই তিন‘শ পেরিয়েছে ভারত। কিন্তু সেই ম্যাচটাও হয়েছিল টাই। এবার কোন পথে হাটবে ধোনি শিবির?

সেপ্টেম্বর থেকে পরিচয়পত্র নিলে গুণতে হবে ফি

জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়ন এবং হারানো বা নষ্ট হওয়ার কারণে জাতীয় পরিচয়পত্র নিতে প্রতি নাগরিককে অন্তত দুইশ টাকা করে দিতে হবে। এ নিয়ম চালু হচ্ছে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে। আর এ ফি কার্যকর করতে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করতে যাচ্ছে ইসি।
বৃহস্পতিবারই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে ইসি সূত্রে জানা যায়।
ইসি সূত্রে জানায, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ফি নির্ধারণ করে এসআরও জারি করে ইসি। এবার ফি কার্যকর করতে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত বিধামালার ৯ বিধি অনুসারে ইসি এ প্রজ্ঞাপন জারি করতে যাচ্ছে। যেখানে বলা হয়েছে- সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফি দেয়া বাধ্যতামূলক করে যে তারিখ নির্ধারণ করবে তখন থেকে তা কার্যকর করা হবে।
এদিকে নতুন বিধিমালা অনুসারে, জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়ন এবং হারানো বা নষ্ট হওয়ার কারণে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র নেয়ার জন্য আলাদা আলাদা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিচয়পত্র নবায়ন করতে সাধারণ ১০০ টাকা ও জরুরি ১৫০ টাকা দিত হবে। হারিয়ে ফেললে বা নষ্ট হলে নতুন পরিচয়পত্র নিতে প্রথমবার আবেদনে ২০০ টাকা, জরুরি ভিত্তিতে ৩০০ টাকা। দ্বিতীয়বার আবেদনে ৩০০ টাকা, জরুরি ভিত্তিতে ৫০০ এবং পরবর্তী যে কোনোবার ৫০০ টাকা ও জরুরি প্রয়োজনে ১ হাজার টাকা করে দিতে হবে। যা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব সিরাজুল ইসলাম বাংলামেইলকে বলেন, ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন বিধিমালায় সংশোধন এনে পরিচয়পত্র নবায়ন ও হারানো বা নষ্ট হলে নতুন পরিচয়পত্র নিতে ফি নির্ধারণ রয়েছে। তা কার্যকরে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’ তবে ৩১ জুলাই পর্যন্ত হারানো বা নষ্ট পরিচয়পত্রের ক্ষেত্রে ডুপ্লিকেট আইডি সংগ্রহে কোনো অর্থ দিতে হবে না বলে জানান তিনি।
বর্তমানে ৯ কোটি ৬২ লাখেরও বেশি ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। তাদেরকে বিনামূল্যে লেমিনেটে পরিচয়পত্র দেয়া হয়। এর মেয়াদ রয়েছে ১৫ বছর। এ সময়ের পরই নবায়ন করা যাবে এ পরিচয়পত্র।
তবে হারানো বা নষ্ট হয়ে গেলে ডুপ্লিকেট পরিচয়পত্র সংগ্রহে ইসির পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে আবেদন করতে হয়। এ আবেদনের মাধ্যমে এতোদিন বিনামূল্যে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতো নাগরিকরা। এখন থেকে নির্ধারিত ফি ইসি সচিব বরাবর পে অর্ডার বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জমা দিয়ে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।
এদিকে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এককালীন চুক্তির ফিও নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এককালীন ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। এছাড়া প্রতিটি তথ্য প্রতিবার যাচাইয়ের জন্য দিতে হবে দুই টাকা করে। সরকারি সংস্থা ও বিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষকে তথ্য-উপাত্ত সরবরাহের ক্ষেত্রে এককালীন ৫ লাখ টাকা সার্ভিস চার্জ রাখা হয়েছে। বার্ষিক এক লাখ টাকা এবং প্রতিটি উপাত্ত সরবরাহে এক টাকা করে দিতে হবে।

নাইকো দুর্নীতি মামলা : খালেদার আবেদন খারিজ

নাইকো দুর্নীতি মামলা বাতিল চেয়ে করা খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে  আগামী দুই মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতে তাকে আত্মসমর্পণেরও নির্দেশ দেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি নুরুজ্জামান ননি ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন। সেই সাথে জামিনের অপব্যবহার করতে পারবেন না এই শর্তে রায় পাওয়ার আগ পর্যন্ত এই দুই মাসের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন বেগম জিয়ার সাঙ্গে কথা বলে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে, দুদকের আইনজীবী জানিয়েছেন, দুর্নীতির প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়ায় আদালত এই রায় দেন।

প্রসঙ্গত, কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের করা নাইকো মামলাটি হাইকোর্টের নির্দেশে ৭ বছর ধরে স্থগিত রয়েছে। মামলাটিতে বর্তমানে স্থায়ী জামিনে আছেন বেগম জিয়া।

স্বাগতম হে মাহে রমজান

রহমত বরকত মাগফেরাতের এই মাহে রমজান। আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার এই মাহে রমজান। যার ঘোষণা হাদীসে কুদসিতে এসেছে-

উচ্চারণ :
কুল্লু আমালিন ইবনু আদামি লাহু ইল্লাস সিয়ামু ফাইন্নাহু লি ওয়া আনা আযযি বিহী (সহিহ মুসলিম)

অর্থ : মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য হয়ে থাকে, কিন্তু রোজা শুধু আমার জন্য আমি তার প্রতিদান দিব। (সহিহ মুসলিম)।

কেউ কেউ এ অর্থও করেন থাকেন-
রোজা আমার জন্য রাখা হয়; আমি নিজেই এর প্রতিদান। সুতরাং এত বড় নেয়ামতের মাস রমজান; যার করণীয় সম্পর্কে আমাদের প্রস্তুতি নেয়া দরকার।

তাই এই কুরআন নাযিলের মাসে বিশ্ব মুসলিম রমজানের প্রস্তুতিতে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে ব্যক্তি, সমাজ, পাড়ায়, মহল্লায় সেমিনার সিম্পোজিয়াম, সভা-সমাবেশ করে থাকে সবাইকে এ বার্তা পৌছে দেয়ার জন্য যে, মাহে রমজান সমাগত।

ওহে বিশ্ব মুসলিম এ মাসে-
দুনিয়ার সকল প্রকার খারাবি থেকে নিজেকে তথা সমাজকে মুক্ত রাখো; আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো; রহমত বরকত মাগফেরাত অর্জনের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন কর।

প্রস্তুতিগুলো কেমন হওয়া চাই :
রমজান মাস পাওয়ার জন্য আমরা রজব মাস থেকেই আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে আসছি-
বর্ণিত আছে, যখন রজব মাস শুরু হত, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দু’আ করতেন-

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা বা-রাকলানা-ফি- রাজাবা ওয়া শা’বান ওয়া বাল্লিগনা- রামাদা-ন।
অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জন্য রজব ও শা’বান মাসে বরকত দাও এবং আমাদেরকে রমযান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দাও। অথ্যাৎ আমাদের নেক হায়াত দান কর, যাতে আমরা রমযান মাস পেয়ে রমযানের বরকত লাভ করতে পারি। সুতরাং আমাদের রমজানের প্রস্তুতি নেয়া একান্ত প্রয়োজন। মুমিন মুসলমানরা এখন সেই প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। কেউবা প্রস্তুতি নিয়েছেন।

যারা খতমে কুরআনের মাধ্যমে তারাবীহ আদায় করবেন তারাও অনেক আগে থেকেই প্রস্তুত।
যারা ইজতেমায়ী ভাবে ইফতারের আয়োজন করবেন তারাও প্রস্তুত। প্রস্তুত সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তথা উপাসনালয়। ধর্ম প্রাণ মুসলমানদের মধ্যে যারা এখনও প্রস্তুতি নেয়নি তারাও প্রস্তুতির পথে। যাতে সবাই ইবাদতে-ইবাদতে কাটিয়ে দিতে পারে পুরো রমজান মাস।

হাদীস শরীফে এসেছে-
উম্মাহাতুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, যখন রমজান সমাগত তখন হযরত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র রমজানুল মোবারকে ইবাদত-বন্দেগীর জন্য কোমর বেঁধে লেগে যেতেন।

তাইতো সমাজের সর্বস্তরে রমজানকে বরণ করতে তথা রমজানের ব্যাপারে সচেতনা তৈরি করতে এবং রমজানের যথাযথ প্রস্তুতি নিতে বিশ্ব মুসলিমের নিকট রমজানের আগমনী বার্তা পৌছিয়ে দেয়া ঈমানের একান্ত অপরিহার্য দাবি। জাগো নিউজের পক্ষ থেকে আহলান সাহলান মাহে রমজান মুরাবক হো মাহে রমজান সুস্বাগতম হে মাহে রমজান

দৃষ্টি আকর্ষণ :
আমরা আজ থেকে পর্যায় ক্রমে রমজানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রমজান সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়াদি জাগো নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের মাধ্যমে বিশ্ব মুসলিমে খেদমতে তুলে ধরব ইনশা আল্লাহ।

রমজানকে স্বাগত জানিয়ে বরিশালে পুলিশের র‍্যালি

পবিত্র মাহে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে বরিশাল ইমাম সমিতি এবং মহানগর পুলিশ প্রশাসন নগরীতে যৌথভাবে র‍্যালি বের করেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সদর রোড অশ্বিনী কুমার হলের সামনে থেকে র‍্যালিটি বের হয়। র‍্যালিটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

র‍্যালির উদ্বোধন করেন মহানগর পুলিশের কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী। এসময় তিনি বলেন, রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় দিনের বেলা প্রকাশ্য পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতার বিক্রি করা যাবে না। সকাল প্রকার অশ্লীলতা বন্ধ রাখা ও রোজাদারদের সম্মান করার আহ্বান জানান তিনি।

র‍্যালিতে অংশ নেন মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. সোয়েব আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) গোলাম রউফ খান পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. জিল্লুর রহমান, নগর ইমাম সমিতির সাধারণ সম্পদক বশিরুল্লাহ আতাহারীসহ অন্যরা।

জামালপুরে জমি নিয়ে বিরোধে বসতঘরে হামলা

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার বিকালে উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের আদ্রা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের হাটবাড়ি গ্রামের হাকিম মণ্ডল সঙ্গে মূলবাড়ী গ্রামের নতু তালুকদারের ছেলে জাহাঙ্গীর তালুকদারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে বিকালে জাহাঙ্গীর তালুকদার পুলিশের সহায়তায় ২০/২৫ জনের একটি ভাড়াটে দল নিয়ে ছলিম মন্ডলের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।

হামলাকারীরা লাঠিসোঠা, রামদা, শাবল ও হাতুরি দিয়ে একটি বসতঘর গুড়িয়ে দেয় এবং একটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে আমজাদ হোসেন (৪৫), সুরুজ মিয়া (৩৫), জলিল তালুকদারসহ (৩২) অন্তত পাঁচজন আহত হন।

আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনা চলাকালে হামলাকারীদের তাণ্ডবে আদ্রা বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ভয়ে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

পুলিশের একার পক্ষে নিরাপত্তা দেওয়া কঠিন : ডিএমপি কমিশনার

শুধু পুলিশের একার পক্ষে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনগণের মাঝেও নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি করতে হবে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় ডিএমপির সদর দফতরে টহল গাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া একথা বলেন।

তিনি বলেন, রমজানে ও ঈদে মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে এবং তাদের জান ও মালের নিরাপত্তা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সব ধরণের ব্যবস্থাই গ্রহণ করেছে পুলিশ।

রমজানে রাজধানীর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি না করতে ওয়াসা এবং দুই সিটি মেয়রকে অনুরোধ জানিয়ে কমিশনার বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর দুই সিটি মেয়রের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। রমজানে রাজধানীর সকল রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ আপাতত বন্ধ রাখতে ডিএমপির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।

রাজধানীর যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমস্যার ‍দ্রুত নিরসনে ট্রাফিক বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, মগবাজার যানজটের জন্য দায়ী। রাজধানীবাসীর জন্য বিষফোঁড়া। মগবাজারের কারণেই পুরো নগরীতে যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এই এলাকার যানজট নিরসনে ডিএমপির পক্ষ থেকে বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। মগবাজারের ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তা দ্রুত মেরামত, রাস্তা জুড়ে পড়ে থাকা নির্মাণ-সামগ্রী স্থানান্তরের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান তিনি।

রাজধানীর যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে মূল সড়ক জুড়ে যাতে কোনো ইফতারির দোকানপাট না বসে সেজন্য সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ইস্টার্ন হাউজিং লি.-এর সিনিয়র নির্বাহী পরিচালক নাজেম নিয়াজ কমিশনারের হাতে টহল গাড়ির চাবি তুলে দেন। ডিএমপি ও ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বকশীগঞ্জে ফুটবল টুর্নামেন্টে বিলেরপাড় একাদশ চ্যাম্পিয়ন।

বকশীগঞ্জ


জামালপুরের বকশীগঞ্জে সাধুরপাড়া ইউনিয়নের ঠান্ডারবন গ্রামে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঠান্ডারবন যুব সংগঠন কর্তৃক আয়োজিত বুধবার বিকালে ঠান্ডারবন সরকারি বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টে বিলের পাড় একাদশ বনাম ধাতুয়া কান্দা একাদশের মধ্যে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় বিলের পাড় একাদশ চ্যাম্পিয়ন হয়। খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল আলম বাবু। এতে সভাপতিত্ব করেন  স'ানীয় সমাজসেবক সোরহাব হোসেন। পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে এসময় প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম, শিক্ষক তাইরুল হাসান, রাশেদুজ্জামান সোনা , ডাঃ খবির উদ্দিন, ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির, সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ উপসি'ত ছিলেন।
এতে কয়েক হাজার দর্শক খেলাটি উপভোগ করেন।    

সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বাড়ছে না

সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বাড়ানোর আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক।
বুধবার জাতীয় সংসদে ফিরোজা বেগম চিনুর টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই।’
মো. আয়েন উদ্দিনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি চাকরিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রথা বাতিল করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। বিশেষায়িত পদে এবং যেসব সংস্থার কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবল সঙ্কট রয়েছে, সেসব সংস্থায় উপযুক্ত যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গকে সরকার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে থাকে। এছাড়া প্রশাসনিক ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে যেসব দপ্তর/সংস্থা দ্রুত জনবল নিয়োগ করা সম্ভব হয় না সেসব দপ্তর/সংস্থায়ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদেরকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে জনবল সঙ্কট নিরসনসহ সরকারি কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়। যে কারনে জনস্বার্থে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা এখনো আছে।
মাহজাবিন খালেদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সচিব পদে ১০৪ জন, অতিরিক্ত সচিব পদে ৬০৮ জন, যুগ্ম সচিব পদে ১৪০৭ জন, উপসচিব পদে ১৪১৪ জনসহ মোট তিন হাজার ৫৩৩ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। জনপ্রশাসনে গতিশীলতা আনতে পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে পাবলিক সার্ভিস এ্যাক্ট প্রণয়ন করার হচ্ছে।

মরণোত্তর সম্মাননা পেলেন প্রথম কম্পিউটার অপারেটর

বাংলাদেশের প্রথম কম্পিউটার অপারেটর নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার হুলহুলিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান মো. হানিফ মিয়াকে মরণোত্তর সম্মাননা পদক দেয়া হয়েছে। আজ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে আইসিটি এক্সপোর সমাপনী অনুষ্ঠানে তার পরিবারের হাতে পদক  তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। মো. হানিফের পক্ষে পদক গ্রহণ করেন তার স্ত্রী, পুত্র শরীফ হাসান সুজন এবং নাতি ইরফান।
বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহায়তায় এই পুরস্কার দেয়া হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সভাপতি এএইচএম মাহফুজুল আরিফ, আইসিটি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, তথ্য ও প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বারসহ অন্যান্যরা।
hanif
ঢাকায় ১৯৬৪ সালে প্রথম কম্পিউটার আসে। কম্পিউটারটি ব্যবহার করা হয় পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে। সেখানে তিনি প্রথম কম্পিউটারটি ব্যবহার করেন। সেটি ছিল একটি আইবিএমের মেইনফ্রেম কম্পিউটার। ওটার মডেল ছিল ১৬২০।
ঐ কম্পিউটারটি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে পাঠায়। কিন্তু এই যন্ত্র আগে পশ্চিম পাকিস্তানের বাসিন্দাদের কেই চোখে দেখেনি। তাই কেউ এটি ব্যবহারও করতে পারে না। অনেক খোঁজাখুঁজি করে পূর্ব পাকিস্তানের একজনকে পাওয়া যায়। তার নাম মো. হানিফ। তিনি এই কম্পিউটারের ব্যবহার জানেন। ইতোপূর্বে তিনি অ্যানালগ কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বিষয়ে ট্রেনিং করেছেন।
কিন্তু হানিফ মিয়া পাকিস্তানের লাহোরে গিয়ে এই কম্পিউটার চালাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ফলে পাকিস্তানের সরকার নিরুপায় হয়ে পূর্ব পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয় কম্পিউটারটি।
ঢাউস আকৃতির সেই মেইনফ্রেম কম্পিউটারটি ঠাঁই হয় ঢাকার আণবিক শক্তি কমিশনের কার্যালয়ে। সেখানে হানিফ কম্পিউটারটি ব্যবহার শুরু করেন।
হানিফ মিয়ার জন্ম হয় ১৯২৯ সালের ১ নভেম্বরে নাটোরের সিংড়া উপজেলায়। তিনি মারা যান ২০০৭ সালের ১১ মার্চ।

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত দুর্ভোগ বেড়েছে ৩০ হাজার বানভাসীর


গত ৫ দিন ধরে জেলার ৬ উপজেলার ২৪ ইউনিয়নের নদ-নদী তীরবর্তী দেড়শতাধিক গ্রাম, চর ও দ্বীপচর গুলো তলিয়ে আছে। এসব এলাকার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানি বন্দী জীবন-যাপন করছে। বন্যার্তদের মাঝে দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। পাশাপাশি গৃহপালিত পশুপাখির খাদ্য সংকট নিয়েও চরম বিপাকে পড়েছে বানভাসীরা। গ্রামীণ কাঁচা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। এ অবস্থায় নৌকা ও কলাগাছের ভেলাই একমাত্র ভরসা।

চিলমারী উপজেলার অষ্টমীর চরের আনছার আলী জানান, পানির জন্যে কোন দিকে বেড়াইতে পারি না। নৌকা নাই, হাটবাজার যাবার পাই না। খাওয়া-দাওয়ার খুব সমস্যায় আছি। গত ৫ দিন ধরে কাজ নাই। ঘরত খাবার নাই। গরু-ছাগল নিয়া খুব সমস্যায় আছি। কি হবে আল্লাই জানে।

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত দুর্ভোগ বেড়েছে ৩০ হাজার বানভাসীর thumbnail
তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি ও অন্যান্য নদ-নদীর পানি সামান্য হ্রাস পেলেও কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে দুধকুমর নদীর প্রবল শ্রোতে ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট ব্রীজের পাইকের ছড়া এলাকায় সংযোগ সড়কের ধ্বস দেখা দেয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চরযাত্রাপুর গ্রামের আমেনা বেগম জানান, ৫ দিন ধরে ছেলে মেয়ে নিয়ে পানির মধ্যে আছি। নলকুপে পানি উঠছে। বাইরে থেকে পানি আনি খাওয়া লাগে। নৌকা নাই, খাবার নাই। খুব কষ্টে আছি।
এদিকে বন্যা কবলিত মানুষের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ৫০ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দেয়া হলেও তা এখনও বানভাসীদের মাঝে বিতরন শুরু হয়নি।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক এবিএম আজাদ জানান, জেলায় বন্যা কবলিতদের জন্য ৫০ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা দ্রত বিতরন করা হবে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৫ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মুজাহিদের ফাঁসি বহাল

সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজা বহাল থাকায় একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিকাষ্ঠেই যেতে হচ্ছে জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার মাত্র দুই মিনিটে এই রায়ের সংক্ষিপ্তসার জানিয়ে দেন। আর সর্বোচ্চ সাজার এই রায় আসে বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার চেষ্টায় বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে। এই বেঞ্চের বাকি তিন সদস্য হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এই প্রথম বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করা কোনো রাজনীতিবিদ একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলতে যাচ্ছেন। বিগত চার দলীয় জোট সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মুজাহিদই যে চার দশক আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী জনগণকে দমাতে গঠিত আলবদর বাহিনীর মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তা উঠে আসে এই মামলার রায়ে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বুদ্ধিজীবী হত্যা এবং সাম্প্রদায়িক হত্যা-নির্যাতনের দায়ে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আনা সাতটি অভিযোগের মধ্যে প্রথম অভিযোগে সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনকে অপরণের পর হত্যা এবং ষষ্ঠ অভিযোগে বুদ্ধিজীবীসহ গণহত্যার ষড়যন্ত্র ও ইন্ধনের অভিযোগে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে ওই দন্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছিল বিচারিক আদালত। একই রায় এসেছিল সপ্তম অভিযোগে, ফরিদপুরের বকচর গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বর্বর হামলা চালিয়ে হত্যা-নিযার্তনের ঘটনায়। আপিল বিভাগের রায়ে প্রথম অভিযোগে আসামির আপিল মঞ্জুর করে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। সপ্তাম অভিযোগে তার সাজা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদন্ড। আর ষষ্ঠ অভিযোগে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রেখে মুজাহিদের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। পঞ্চম অভিযোগে সুরকার আলতাফ মাহমুদ, গেরিলা যোদ্ধা জহিরউদ্দিন জালাল ওরফে বিচ্ছু জালাল, শহীদজননী জাহানারা ইমামের ছেলে শাফি ইমাম রুমি, বদিউজ্জামান, আবদুল হালিম চৌধুরী জুয়েল ও মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদসহ কয়েকজনকে ঢাকার নাখালপাড়ায় পুরনো এমপি হোস্টেলে আটকে রেখে নির্যাতন এবং জালাল ছাড়া বাকিদের হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার জন্য ট্রাইব্যুনালে মুজাহিদকে দেয়া হয়েছিল যাবজ্জীবন কারাদন্ড। আপিল বিভাগের রায়ে সেই সাজাই বহাল রাখা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে তৃতীয় অভিযোগে ফরিদপুর শহরের খাবাসপুরের রণজিৎ নাথকে অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয় মুজাহিদকে। ওই সাজা তার প্রাপ্য বলে আপিল বিভাগও মনে করেছে। এছাড়া দ্বিতীয় অভিযোগে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে হিন্দু গ্রামে গণহত্যা এবং চতুর্থ অভিযোগে আলফাডাঙ্গার আবু ইউসুফ ওরফে পাখিকে আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলেও তাতে মুজাহিদের সংশ্লিষ্টতা প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে না পারায় ট্রাইব্যুনাল মুজাহিদকে খালাস দিয়েছিল। এ কারণে এ দুটি অভিযোগ আপিল বিভাগের রায়ে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দন্ডিতদের মধ্যে মুজাহিদ হলেন চতুর্থ ব্যক্তি, আপিল বিভাগে যার মামলার নিষ্পত্তি হল। ২১ আগস্ট গ্রেনেড মামলায় হাজিরার জন্য মুজাহিদকে আগের দিন নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল। আপিল বিভাগ যখন যুদ্ধাপরাধ মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করছে, ৬৭ বছর বয়সী এই জামায়াত নেতা তখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। মুক্তিযুদ্ধকালীন আলবদর বাহিনীর কমান্ডার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় বহাল থাকায় আদালতের বাইরে এ মামলার সাক্ষী ও মুক্তিযোদ্ধারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম বলেন, আসামি মুজাহিদের ফাঁসির রায় এসেছে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে। এই রায়ে বাংলাদেশের সবাই খুশি হবে। এক শতাব্দীতে এরকম বুদ্ধিজীবী তৈরি হবে না। তবে এইটুকু সান্ত্বনা, বিচার পাওয়া গেল। অন্যদিকে মুজাহিদের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, মৃত্যুদন্ড দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ এ মামলায় ছিল না বলেই তিনি মনে করেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পেলেই তারা রিভিউ আবেদন করবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রায়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এটা বিচার। বিচারিক প্রক্রিয়ায় হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। নিয়ম অনুযায়ী, এখন আপিলের রায় ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে। সেটি হাতে পেলে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবে ট্রাইব্যুনাল। সেই মৃত্যু পরোয়ানা ফাঁসির আসামিকে পড়ে শোনাবে কারা কর্তৃপক্ষ। সুপ্রিম কোর্ট এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর ১৫ দিনের মধ্যে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করতে পারবে আসামিপক্ষ। তবে রায়ের নির্ভরযোগ্যতায় 'খাদ আছে' বা 'বিচার-বিভ্রাটের' আশঙ্কা আছে বলে মনে করলেই আদালত তা পুনর্বিবেচনার জন্য গ্রহণ করবে। রিভিউ যে আপিলের সমকক্ষ হবে না, তা যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার 'রিভিউ' খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়েই স্পষ্ট করা হয়েছে। রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি হয়ে গেলে এবং তাতে মৃত্যুদন্ড বহাল থাকলে আসামিকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি স্বজনদের সঙ্গে দেখাও করতে পারবেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমার বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেলে সরকার কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। দুই জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা ও মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের রায় বাস্তবায়নের আগে পালিত প্রক্রিয়াগুলো এক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হিসাবে থাকছে।
বদর নেতা থেকে মন্ত্রী
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২ জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার পশ্চিম খাবাসপুরে। ১৯৬৪ সালে মাধ্যমিক পাসের পর তিনি ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন এবং উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র থাকাকালেই জামায়াতের তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘে যোগ দেন। ১৯৬৮ সালে তাকে সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। ১৯৭১ সালে বাংলার মানুষের স্বাধীনতার সংগ্রাম যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, সেই বছর জানুয়ারিতে ইসলামী ছাত্রসংঘের ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি হন মুজাহিদ। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর জুলাই মাসে সংগঠনের পূর্ব পাকিস্তান শাখার সেক্রেটারির এবং এরপর প্রাদেশিক সভাপতির দায়িত্ব পান। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতায় ইসলামী ছাত্রসংঘের সদস্যদের নিয়ে আলবদর বাহিনী গঠিত হলে ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার নেতৃত্ব দেন ইসলামী ছাত্রসংঘের তখনকার সভাপতি ও জামায়াতের বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামী। অক্টোবরে ওই বাহিনীর প্রধান হন মুজাহিদ। তার নেতৃত্বে আলবদর বাহিনী যুদ্ধের মধ্যে ফরিদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা, অপহরণ, লুটপাটের মতো ব্যাপক মানবতাবিরোধী কর্মকান্ড চালায় বলে আদালতের রায়ে উঠে এসেছে। এমনকি ১৬ ডিসেম্ব্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের প্রস্তুতির সময়ও বাহিনী নিয়ে আত্মসমর্পণ না করার সিদ্ধান্ত নেন মুজাহিদ। একাত্তরে তার কর্মকান্ডের ঘনিষ্ঠ সহযোগী পলাতক আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারকেও যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। স্বাধীনতার পর মুজাহিদ জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ১৯৮২ সালে কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য হন। ১৯৮৯ থেকে দুই বছর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালনের পর ২০০০ সালে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল হন তিনি। কোনো নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলেও বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান মুজাহিদ। জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামের পরিচালনা পর্ষদেরও প্রধান ছিলেন তিনি। যুদ্ধাপরাধের মামলায় গ্রেফতার হওয়ার আগে ২০১০ সালের মার্চে জামায়াতে ইসলামীর এক সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করেছে। কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধের মতো কোনো ধরনের অপরাধে জামায়াত নেতারা জড়িত ছিলেন না।
বিচার পরিক্রমা
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগের একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে গ্রেফতার করার পর ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়। মামলার শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ২০১২ সালের ২১ জুন ট্রাইব্যুনালে মুজাহিদের বিচার শুরু হয়। ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই ট্রাইব্যুনালে এই জামায়াত নেতার ফাঁসির রায় আসে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ১১ অগাস্ট আপিল করেন মুজাহিদ। রাষ্ট্রপক্ষ আপিল না করলেও শুনানিতে অংশ নিয়ে দন্ড বহাল রাখতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। গত ২৯ এপ্রিল শুনানি শুরুর পর মঙ্গল ও বুধবার যুক্তি উপস্থাপনসহ নয় দিন আপিলের ওপর শুনানি গ্রহণ করেন বেঞ্চের চার বিচারপতি। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যার্টনি জেনারেল মো. রশির আহমেদ। আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এস এম শাজাহান। সঙ্গে ছিলেন শিশির মনির।
চতুর্থ রায়
ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত হওয়া ১৯টি মামলার রায়ের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৩টিতে দন্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হয়েছে। মৃত্যুদন্ডাদেশ পাওয়া আবুল কালাম আযাদ, চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান এবং ফরিদপুরের জাহিদ হোসেন খোকন ওরফে খোকন রাজাকার পলাতক থাকায় এ সুযোগ পাননি। আমৃত্যু কারাদন্ডপ্রাপ্ত জাতীয় পার্টির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল জব্বারও একই কারণে আপিল করতে পারেননি। মুজাহিদের মামলাসহ চূড়ান্ত রায় এসেছে চার মামলায়। এর আগে গত ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে সর্বোচ্চ সাজা দিলে চলতি বছর ১১ এপ্রিল তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদন্ড এবং তার ঠিক এক বছর আগে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদন্ড দেয় আপিল বিভাগ। ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। আপিল শুনানি চলাকালেই মৃত্যু হয়েছে জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম এবং বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিল শুনানি গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়।
মুজাহিদের ফাঁসির রায় বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে : মাহবুবে আলম
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে বদরপ্রধান আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় সর্বোচ্চ আদালতে বহাল থাকায় বাংলাদেশের সবাই খুশি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন। আসামি মুজাহিদের আপিল আংশিক মঞ্জুর হলেও তাকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদন্ড চূড়ান্ত রায়েও বহাল থাকে। রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম বলেন, আসামি মুজাহিদের ফাঁসির রায় এসেছে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে। এই রায়ে বাংলাদেশের সবাই খুশি হবে। বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে মুক্তিযুদ্ধের সময় আলবদর বাহিনী যে বুদ্ধিজীবী হত্যার মধ্য দিয়ে যে ক্ষতি করেছে, তা এক শতাব্দীতেও পূরণ হওয়ার নয়। জাতিকে মেধাশূণ্য করার যে নীল নকশা ছিল, এর চেয়ে বড় অপরাধ আর হয় না। হিটলারের যে হিংস্রতা আর এদের হিংস্রতার কোনো তফাৎ আমি দেখি না। আপিল আদালত 'সঠিকভাবেই' রায় দিয়েছে উল্লেখ করে মাহবুবে আলম বলেন, এই রায়ে বাংলাদেশের সবাই খুশি হবে। আপিল বিভাগের রায়ে প্রথম অভিযোগে আসামির আপিল মঞ্জুর করে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। সপ্তাম অভিযোগে তার সাজা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদন্ড। আর ষষ্ঠ অভিযোগে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রেখে মুজাহিদের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এক শতাব্দীতে এরকম বুদ্ধিজীবী তৈরি হবে না। তবে এইটুকু সান্ত্বনা, বিচার পাওয়া গেল। আপিল আদালত ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে এই রায় দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আজ আমি শর্ট অর্ডার চাইনি। আগেরবার চেয়েছিলাম, দেওয়া হয়নি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই আজ চাইনি। আশা করছি শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ রায় পেয়ে যাব। ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দ-িতদের মধ্যে মুজাহিদ হলেন চতুর্থ ব্যক্তি, আপিল বিভাগে যার মামলার নিষ্পত্তি হল।
রায় রিভিউএ আবেদন করবো : খন্দকার মাহবুব
একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া মৃত্যুদন্ডের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী খন্দকার মাহাবুব হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে আপিল বিভাগ রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মৃত্যুদন্ড দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ এ মামলায় ছিল না বলেই তিনি মনে করেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পেলে ১৫ দিনের মধ্যে আমরা রিভিউ আবেদন করব। সর্বোচ্চ আদালত আপিল আবেদন 'আংশিকভাবে মঞ্জুর' করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ সকালে যে রায় ঘোষণা করেন, তাতে প্রসিকিউশনের আনা প্রথম অভিযোগে মুজাহিদকে খালাস দেওয়া হয়। এই অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছিল। সাত নম্বর অভিযোগেও ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজা কমিয়ে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। আর ষষ্ঠ অভিযোগে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির রায় বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া ৫ নম্বর অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া যাবজ্জীবন এবং ৩ নম্বর অভিযোগে তার পাঁচ বছরের কারাদ-ও বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মাহাবুব বলেন, রায়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এটা বিচার। বিচারিক প্রক্রিয়ায় হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দন্ডিতদের মধ্যে মুজাহিদ হলেন চতুর্থ ব্যক্তি, আপিল বিভাগে যার মামলার নিষ্পত্তি হল।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে আরো ৩৭ বাংলাদেশি শনাক্ত

ডেস্ক: মায়ানমারের জলসীমা থেকে উদ্ধারকৃতদের মধ্যে আরো ৩৭ জনকে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এদের দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। ২১ মে সাগরে ভাসমান অবস্থায় ২০৮ জনকে উদ্ধার করে মায়ানমারের নৌ-বাহিনী। মায়ানমার কর্তৃপক্ষ প্রথম থেকে এদের মধ্যে ২০০ জনকে বাংলাদেশি বলে দাবি করে আসছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে নানাভাবে যাচাই-বাছাই শেষে ৮ জুন ১৫০ জনকে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত করে দেশে ফেরত আনা হয়। পরে অবশ্য ওই ১৫০ জনের মধ্যে দুই জন রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করা হয়।
উদ্ধার হওয়া অপর ৫৮ জনের মধ্যেও ৩৭ জনকে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত হলো। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এমএম আনিসুর রহমান জানান, এই ৩৭ বাংলাদেশিকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। বুধবার বা বৃহস্পতিবার দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে তাদের ফেরত আনার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রসঙ্গত ২৯ মে মায়ানমারের জলসীমা থেকে সে দেশের নৌ-বাহিনী ৭২৭ জনকে উদ্ধার করে। এদের অধিকাংশই বাংলাদেশি ও মায়ানমারের রোহিঙ্গা বলে দাবি করছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম।

দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার দাবিতে মানববন্ধন


Sammobadi_dol_557048818 ডেস্ক: রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (এমএল)।
বুধবার (১৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, মুনাফাখোর ও মজুদদাররা ছলচাতুরি করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে যাচ্ছে। সরকারকে এসব মুনাফাখোর ও মজুদদারদের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
যারা মুনাফাখোর ও মজুদদার তাদের বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাম্যবাদী দল ঢাকা মহানগর কমিটির আয়োজনে মানববন্ধনে আরো বক্তব্য দেন দলের পলিটব্যুরোর সদস্য লুৎফর রহমান, নগর কমিটির সভাপতি বাবুল বিশ্বাসসহ আরো অনেকে।

চাঁদ দেখা যায়নি, শুক্রবার রোজা শুরু



moon20150617195349ডেস্ক : বাংলাদেশের আকাশে কোথাও আজ পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে শুক্রবার থেকে পবিত্র রমজান শুরু হবে। বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সভাকক্ষে চাঁদ দেখা কমিটির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি আলহাজ প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান জানান, আজ বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা না যাওয়ায় শুক্রবার থেকে পবিত্র রমজান শুরু হবে। আর সেহেরি খেতে হবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে। ১৪ জুলাই মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শবে কদরের দিন ধার্য করা হয়। এর আগে মাগরিবের নামাজ শেষে সভাকক্ষে আলোচনায় বসেন চাঁদ দেখা কমিটির সদস্যরা। পরবর্তীতে সারা দেশে কোথায় চাঁদ দেখা না যাওয়ায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার থেকে পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার কথা জানানো হয়।
চাঁদ দেখা কমিটির এ বৈঠকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি আলহাজ প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য সচিব সামীম মোহাম্মদ আফজাল, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।